ঘুষ না দেওয়ায় ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ এক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে

মালদা, ১৪ নভেম্বরঃ ঘুষ না দেওয়ায় ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রেপ্তার করার হুমকির অভিযোগ উঠলো পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নির্যাতিতার বাবা এবং দাদা সহ ছয় জনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ ওঠে ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা ছাত্রী এবং তার পরিবারের লোকেরা বিচার চেয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়।

Top News

জানা গিয়েছে, গৃহশিক্ষকের কাছ থেকে পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ করা হয়েছিল ওই ছাত্রীকে৷ প্রথমে একবার ধর্ষন হলেও লোক লজ্জায় সেই ঘটনা কাউকে জানাতে পারেনি ওই ছাত্রী। পরে জামাইবাবুর বাড়ি যাওয়ার পথে ফের ধর্ষিতা হয় ওই ছাত্রী বলে অভিযোগ৷ ধর্ষক একজনই৷ পরবর্তীতে ধর্ষিতা ছাত্রীর জামাইবাবু ওই ধর্ষককে ধরে পুলিশের হাতে দিয়ে আসেন৷ গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে৷ বেশ কয়েকদিন জেল হেপাজতে থাকার পর জামিনও পেয়ে যায় সে৷ এরপর ওই ধর্ষকের বাবা ধর্ষিতা মেয়ের পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন৷ এবারই শুরু হয় পুলিশের খেলা৷ ধর্ষণে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে কোনও মামলা রুজু না করার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষিতার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন থানার বড়োবাবু৷ সমস্ত কথোপকথন ফোনে রেকর্ড করে রাখেন ওই ছাত্রীর জামাইবাবু৷ টাকা দিতে না পারায় ধর্ষিতার পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ৷ গ্রেফতার করা হয় মেয়ের বাবা ও দাদাকে৷ এখনও তাঁরা জেল হেপাজতে রয়েছে৷ সমস্ত ঘটনা লিখিতভাবে জানিয়ে বুধবার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ছাত্রী ও তাঁর জামাইবাবু৷ তাঁদের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ডিএসপি৷ ঘটনাটি ঘটেছে মালদা থানায়৷

      ধর্ষিতা ওই ছাত্রী পুকুরিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা৷ গত ১৪ সেপ্টেম্বর গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় তার পথ আটকায় তিন যুবক৷ তাদের মধ্যে একজন তাকে ধর্ষণ করে বলে জানিয়েছে ওই ছাত্রী৷ সেই ঘটনার ছবি মোবাইলে তুলে রাখে অভিযুক্ত মহম্মদ নুরজামান শেখ৷ ধর্ষণের কথা কাউকে বললে সে সেই ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়৷ ভয়ে এনিয়ে কাউকে কিছু বলেনি ওই ছাত্রী৷ গত ১৬ অক্টোবর সে পুরাতন মালদার মহিষবাথানি এলাকায় তার দিদির শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিল৷ সেই সময় মালদা থানা এলাকায় ফের তাকে ধর্ষণ করে নুরজামান৷ দিদির বাড়ি গিয়ে ওই ছাত্রী গোটা ঘটনা সবাইকে খুলে বলে৷ এরপরই ওই ছাত্রীর জামাইবাবু গুলাব শেখ মালদা থানা এলাকা থেকেই নুরজামানকে ধরে মালদা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন৷ ১৭ অক্টোবর ওই ছাত্রীর মেডিকেল করে পুলিশ৷ ধর্ষণের চিহ্ন পেয়ে নুরজামানকে গ্রেফতার করা হয়৷ যদিও কয়েকদিন পরেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় সে৷ এদিকে ১ অক্টোবর নুরজামানের বাবা মহম্মদ ইয়াজদানি ওই ছাত্রীর বাবা, দুই দাদা, দুই কাকা ও জামাইবাবুর বিরুদ্ধে মালদা থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন বলে অভিযোগ৷ আরও অভিযোগ, এরপরেই থানার বড়োবাবু বিপুল সরকার ওই মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করবেন না আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন৷ এই টাকা দিতে অক্ষম মেয়ের বাবা৷ ফলত সেই অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ৷ গত ৬ অক্টোবর ছাত্রীর বাবা ও এক দাদাকে গ্রেফতার করা হয়৷ এখনও তাঁরা জেল হেপাজতে রয়েছে৷

বুধবার ওই ছাত্রী জামাইবাবুকে নিয়ে পুলিশ অফিসার বিপুল সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ অভিযোগপত্রে তিনি সমস্ত ঘটনা জানিয়ে দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন৷ তিনি জানান, পুলিশ সুপারের অফিসে ডিএসপি তাঁর সঙ্গে কথা বলেন৷ তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷