‘আপনার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি’- অভিষেককে পাঠানো শুভ্রাংশুর চিঠি প্রকাশ্যে

কলকাতা, ৯ নভেম্বরঃ গত অগাস্ট মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ এনেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এবার সেই অভিযোগ সত্যি কিনা, অভিষেকের কাছে তা জানতে চাইলেন শুভ্রাংশু রায়। এরকমই একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। আর ওই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

Top News

ঘটনার সূত্রপাত ১১ অগাস্ট। সেদিন বিজেপির সভা ছিল মেয়ো রোডে। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ওই সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চালানো নিয়ে অভিযোগ তোলেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজ্যে সিন্ডিকেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে ৩ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে তা অপব্যবহার করা হয়েছিল। এবং সেই বেআইনি কাজে জড়িত অভিষেক। অমিত শাহের ওই মন্তব্যের পরে তাঁকে চিঠি দিয়ে নিঃস্বার্থ ক্ষমা চাইতে বলেন অভিষেক। ক্ষমা না চাইলে মানহানির মামলারও হুমকি দেওয়া হয়।

একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, অমিত শাহের ওই অভিযোগের সত্য-মিথ্যা জানতে অভিষেককে চিঠি লিখেছেন শুভ্রাংশু। অমিত শাহের তোলা অভিযোগ সত্যি কি না তা জানতে চেয়েছেন তিনি। এমনকী, চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভ্রাংশু। ইংরাজিতে লেখা ওই চিঠিতে শুভ্রাংশু লিখেছেন, “মেয়ো রোডে ১১ অগাস্ট বিজেপির তরফে একটি সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে আপনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অবৈধ কাজকর্ম চালানোর অভিযোগ তোলা হয়। যা বেশ কিছু সংবাদ পত্রে প্রকাশ হয় ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। অমিত শাহ বলছেন, কেন্দ্রের অনুদানের ৩ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা আপনি অপব্যবহার করেছেন। এসবকিছুর পর আমার মনে হয় আপনি ওই কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। আপনি আমাকে জানান অমিত শাহের তোলা ওই অভিযোগ সত্যি কি না। আপনার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।”

ওই চিঠিটি ১৪ অগাস্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠান শুভ্রাংশু। কিন্তু সম্প্রতি চিঠিটি প্রকাশ্যে এসেছে। চিঠিটিতে কোনও লেটার হেড নেই। একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি ওই চিঠির সত্যতা জানতে শুভ্রাংশুকে ফোন করেছিলেন। তিনি অবশ্য চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। শুভ্রাংশু বলেন, “চিঠি অনেক আগেই দিয়েছিলাম। বিস্তারিত মনে নেই কী বলেছিলাম।”