জলপাইগুড়ি লীগে পুরুষদলের খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামল রুক্মিণী

সৌমেন সেন, জলপাইগুড়ি: এই প্রথম কোন মহিলা জলপাইগুড়ি লীগের প্রথম ডিভিশন ক্রিকেট ম্যাচে পুরুষদলের খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামল। ওই মহিলার নাম রুক্মিণী রায়। জলপাইগুড়ি অ্যাথেলেটিক ক্লাবের(আরএসএ) হয়ে মঙ্গলবার প্রথম এই টুর্নামেন্টে খেলতে নামে রুক্মিণী। বাঁ হাতে স্পিন বল করে রুক্মিণী। এদিনের ম্যাচে ব্যাট করে ৮ রান করে। বলও করেছিল। ১৪ বয়সী রুক্মিণী পূর্বাঞ্চল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা জলপাইগুড়ি দিনবাজার এলাকায় ছোট্ট হোটেল চালান। তার দুই ভাই আছে। তারা কেউ খেলাধূলা করে না। তবে অল্প বয়স থেকে ক্রিকেট খেলার প্রতি ঝোঁক ছিল রুক্মিণীর। ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে শুরু করে। ক্রিকেটের প্রতি তার উৎসাহ লক্ষ্য করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি কুমার দত্ত তাকে প্র্যাকটিসে নেওয়ার অনুমতি দেন বলে জানা গিয়েছে। কিছুদিন আগে সিএবি থেকে জলপাইগুড়িতে মহিলা কোচ আসে। তিনি রুক্মিণীর খেলা দেখে মহিলাদলে নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু জেলায় আলাদা করে মহিলা ক্রিকেট টিম না থাকায় তাকে পুরুষদের দলেই জায়গা দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

Top News

এর আগে জেলা থেকে কলকাতায় ট্রায়েল দিতেও গিয়েছিল রুক্মিণী। মঙ্গলবার খেলার পর রুক্মিণী বলে, “আমি মূলত বোলার। বাঁ হাতে স্পিন বল করি। চার বছর ধরে প্র্যাকটিস করছি। আমার কোচ পার্থ মণ্ডল। ক্রিকেট খেলতে ভালো লাগে। বাড়ির লোকেরও তাতে সম্মতি রয়েছে। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার মিতালি রাজদের ফলো করি।” জলপাইগুড়ি অ্যাথেলেটিক ক্লাবের(আরএসএ) কোচ কালু সেন বলেন, “সিএবি-র মহিলা কোচ এসে ৩৫ জনকে বেঁছে নিয়ে ট্রায়েল দেয়। ওরা ডিসট্রিক্টেও খেলে এসেছে। সে বেঙ্গল ট্রায়েলেও গিয়েছিল। ভালোই খেলে। সে বাঁ হাতি বোলার।” পুরুষদের সঙ্গে একই টিমে মহিলা খেলছে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমদের জেলায় আলাদা করে কোন মহিলা ক্রিকেট টিম নেই। তাই আমাদের জেলা দলের হয়েই এবার জেলার প্রথম ডিভিশন ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিয়েছে রুক্মিণী।