চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপিয়ে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা দুই ছাত্রীর

কার্ত্তিক পাত্র, মুরশিদাবাদঃ জ্ঞান ফিরতেই বুঝতে পারে ঠিক কোনও পাচারকারির হাতে পড়েছে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী তিতলি ( আসল নাম নয়)। সেই সময় ট্রেন চলতে শুরু করেছে, অগত্যা? নিজেকে এবং সঙ্গে থাকা আরও একজন যার জ্ঞান ফিরেছে এবং সেও ভয়ে জড়সড় হয়ে আছে তাকেও তো বাঁচাতে হবে? আর কোনও উপায় নেই সাথে থাকা আর একজনকে নিয়েই ট্রেন থেকে সোজা ঝাপ। এভাবেই পাচারকারিদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের জীবন ফিরে পেলো দুই ছাত্রী। এই পর্যন্ত শুনে আপনার মনে হতেই পারে কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য শোনাচ্ছি, তবে না ঘটনাটি কোনও বলিউডের সিনেমার নয়। বরং বাংলারই দুই সাহসী মেয়ের।

Top News

কয়েকদিন আগেই খবরে আসে জনাকয়েক ছাত্রীকে অপহরণ করে কোন অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাচ্ছে একদল দুষ্কৃতি। তাঁদের মধ্যেই ছিল সেখালিপুর স্কুল ও মুর্শিদাবাদের মুনিরিয়া হাইমাদ্রাসার ২ ছাত্রী। মুনিরিয়া হাইমাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর জ্ঞান ফিরলে সে এবং সেখালিপুর স্কুলের ১ ছাত্রী  ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে একজনকে লালগোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অপর একজনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত ওই সাহসী ছাত্রী  জানিয়েছে, “একটি টাটাসুমো গাড়িতে আমাকে অপহরণ করা হয়। কিছু মাদক দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে আমাকে লালগোলা-কেষ্টপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যায় ওরা, ট্রেনে আমার জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারি কয়েকজন দুষ্কৃতী আমাকে অপহরণ করেছে, ওই অবস্থায় আমি ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিই।”

পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে ওই টাটা সুমোটির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। সানিয়া হাসানদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন যুবতীকে কিভাবে  খুঁজে বের করা যায় তার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।