একদিনে দুই প্রকল্পের কাজ শুরু দাঁড়ভিটায়, ক্ষত সারাতেই কি উন্নয়নের প্রলেপ উন্নয়ন মন্ত্রীর!

তুষারকান্তি বিশ্বাস, ইসলামপুরঃ উন্নয়নের প্রলেপ দিয়ে দাঁড়ভিটার ক্ষত সারিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় কয়েক মাস আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ব্লকের দাঁড়ভিট এলাকা। ওই ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। রাতারাতি অখ্যাত দাঁড়ভিটা গ্রাম সকলের পরিচিত হয়ে উঠেছিল। ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দাঁড়ভিট গ্রামের উন্নয়নের নজর দিতে শুরু করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। মাস দুয়েক আগে তিনি নিজে ওই এলাকায় পরিদর্শনে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে তাঁদের দুটি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে আসেন। এরমধ্যে একটি দাঁড়ভিটা হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তায় দোলোঞ্চ নদীর উপড়ে সেতু আর একটি শ্মশানঘাট। রবিবার সেখানে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই দুই প্রকল্পের কাজের সূচনা করলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী।

Top News

মন্ত্রী জানিয়েছেন, দোলোঞ্চ নদীর উপড়ে ৭২ মিটার লম্বা, সাড়ে ৫ মিটার চওড়া সেতু নির্মাণ করা হবে। ওই সেতু নির্মাণ করতে ৭ কোটি ২৩ লক্ষেরও বেশী টাকা খরচ হবে। ওই সেতু নির্মাণ করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগবে। এছাড়া ৬৭ লক্ষ ২৮ হাজারেরও বেশী টাকায় একটি শ্মশানঘাট তৈরি করা হবে। দুই চুল্লি বিশিষ্ট ওই শ্মশানের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারাই জায়গা দিয়েছেন। আগামী কাল থেকেই ওই দুই প্রকল্পে জোড় কদমে কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিন কাজের সূচনা অনুষ্ঠানে উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক অরবিন্দ মুকার মিনা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি ফরহাদ বানু সহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়ও জমে ছিল দেখার মত। রবীন্দ্রনাথ বাবু বলেন, “ মাস দুয়েক আগে যখন এসেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল ২০ বছর আগেই এই এলাকার বাসিন্দাদের দাবি গুলো পূরণ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা হয় নি। তাই যতদ্রুত উন্নয়নের কাজ শুরু করা যায়, তার জন্য কথা দিয়েছিলাম। আজ সেই কাজের সূচনা হল। খুব শীঘ্র এই কাজ গুলো সম্পূর্ণ হয়, সেদিকে নজর রাখা হবে। বাকি আরও কিছু রাস্তা নির্মাণের কাজের দাবি রয়েছে, সেটাও করে দেওয়া হবে।”

দাঁড়ভিট হাইস্কুলে ছাত্রদের পছন্দের বিষয় অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলনে গুলি চললে দুই ছাত্রের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ গুলি চালায় নি বলে জানালে সিবিআই তদন্তের দাবি ওঠে। বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলো রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। ফলে ওই এলাকায় অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই পরিস্থিতি নিজেদের অনুকুলে নিয়ে আসতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর ওই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।