দাড়িভিট উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের পোস্টার খুলতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে মহকুমা শাসক

তুষার কান্তি বিশ্বাস, ইসলামপুর: হাইকোর্টের নির্দেশ পেলেও দাড়িভিট উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের পোস্টার খুলতে পারল না প্রশাসন। সোমবার পোস্টার খুলতে গিয়ে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন মহকুমা শাসক মনীষ মিশ্র। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কুড়ি সেপ্টম্বর গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন নামে দুই পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনার পর যে পোস্টার দারিভিট হাই স্কুলের গেটে লাগিয়ে দেওয়া হয় তা খুলে ফেলার জন্য এবং বিদ্যালয়ের চত্বর থেকে ধরনা মঞ্চ সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

Top News

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের প্রায় দু হাজার জন ছাত্র ছাত্রীর অভিভাবকদের মধ্যে মাত্র চুয়ান্ন জন আদালতের দ্বারস্থ হন। তারা সুষ্ঠুভাবে পঠন-পাঠন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের থেকে এসব তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালত সম্প্রতি প্রশাসনকে সেসব সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ কার্যকর করতে এর আগে বিডিও শতদল দত্ত এবং মহাকুমা শাসক মনীষ মিশ্র। সেখানে গিয়ে ফিরে আসেন। তাদের কাউকেই ওই পোস্টার খুলতে দেওয়া হয়নি। এরপর সোমবার অভিভাবকদের সম্মতি পেলেও সেই পোস্টার খুলতে গিয়ে এবার রুখে দাঁড়ালো পড়ুয়ারা। অধিকাংশ পড়ুয়া পোস্টার খুলতে বাধা দেয়।

পড়ুয়াদের দাবি, মৃত দুই পড়ুয়ার সিবিআই তদন্তের দাবিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত সিবিআই তদন্ত শুরু না হবে ততদিন তারা খুলে ফেলবেন না এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিদ্যালয় বেশিভাগ পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা শামিল রয়েছেন বলে ওই ছাত্র ছাত্রীর বক্তব্য। পড়ুয়ার আরো জানিয়েছে, বিদ্যালয় এর গেটে ছোট্ট একটা পোস্টার থাকাতে তাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাই তারা পোস্টার খুলে ফেলতে কোনোভাবেই দেবেন না।

মৃত তাপস বর্মনের মা ঝরনা বর্মন এবং মৃত রাজেশ সরকারের মা মঞ্জু সরকার জানান, আদালতের নির্দেশ তারা অমান্য করছেন না। তারা জানিয়ে দিয়েছেন প্রশাসন এসে পোস্টার খুলেই নিতে পারে।

যদিও মহকুমা শাসক বলেন, অভিভাবকদের আপত্তি না থাকলেও এদিন ছাত্রছাত্রীরা আপত্তি জানায় কিন্তু এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জিনিসটা বুঝিয়ে বলেছি। ওরা বিষয়টা বুঝবে আশা করা যাচ্ছে।