পণের জন্য অত্যাচার, অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী অন্তঃসত্বা গৃহবধূ, চাঞ্চল্য

প্রনব মন্ডল, মালদা: অতিরিক্ত পণ চেয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। দিতে না পারায় শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী এক অন্তঃসত্বা গৃহবধূ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মানিকচক থানার ডোমহাটের পালপাড়া এলাকার। জানা গেছে, এদিন ভোরের দিকে বাড়ি থেকে বের হয় অন্তঃসত্বা গৃহবধূ। কিছুক্ষণ পর তাঁর ঝুলন্তদেহ দেখা যায় বাড়ির পেছনে আম বাগানের মধ্যে। গলায় ওড়না জড়ানো ছিল। স্থানীয় লোকজন আম গাছের ডালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখে খবর দেয় পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে মানিকচক থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে গৃহবধুর স্বামী-‌সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনের নামে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে সকলেই পলাতক।

Top News

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মৃতার নাম রিঙ্কি রবিদাস (‌১৯)‌। অভিযুক্ত স্বামীর নাম জীবন রবিদাস। রতুয়া থানার সামসির জিতলিপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি।  জানা গেছে, বছর দেড়ের আগে তাঁদের বিয়ে হয়। ৩ মাসের অন্তঃসত্বা ছিলেন রিঙ্কি। অভিযুক্ত স্বামী নিজেদের জমিজায়গা দেখা শোনার কাজ করে। পাশাপাশি টিউশনিও করে। প্রেম করে আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে। রিঙ্কি মাধ্যমিক দেওয়ার পর তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে জীবন। বিয়ের পর রিঙ্কিকে শ্বশুরবাড়িতে তোলা হয় নি।

পরে কয়েক মাস পর তোলা হয়। বাড়িতে তোলার পর থেকে পণের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। ২ লক্ষ টাকা, একটি মোটর বাইক, সোনার গয়না-‌সহ ঘরের যাবতীয় আসবারপত্রের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রিঙ্কির বাবা পশুপতি রবিদাস ঢাকির কাজ করেন। গরিব পরিবার তাঁর। তাঁর পক্ষে অত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে তখনই জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই মেয়ের ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। মাস খানেক আগে রিঙ্কিকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তাঁকে আর শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে না বলে জানায় তাঁর স্বামী। এমনকী তাদের দাবি মতো পণ দিলে, তবেই বাড়িতে তোলা হবে। ফোনে এমনই জানানো হয় বলে জানান মৃতার পরিবারের লোকেরা।

 মৃতার মামা গোকুল রবিদাস অভিযোগ করে বলেন, “ওরা কয়েক মাস থেকে পণের জন্য চাপ দিচ্ছিল। পণ আমরা দিতে না পারাই, ওরা মারধর শুরু করে, খেতে পর্যন্ত দিত না। মাস খানেক আগে মেয়েকে আমাদের এখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওদিকে জামাই ফোনে মেয়েকে বলতে থাকে, ওদের বংশে সকলের দুটি করে বিয়ে। পণ দিতে না পারলে আমাদের মেয়েকে আর ওদের ঘরে তুলবে না। সেও আরেকটি বিয়ে করবে। কাল রাতে ফোনে শোনার পর থেকে মেয়ে মুষড়ে পড়ে। আমাদের মেয়ের মৃত্যুর জন্য ওরাই দায়ী।’‌ এদিন স্বামী জীবন রবিদাস-‌সহ ৭ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।