কুলিক নদীর স্বাস্থ্যের খোঁজে চারদিন ধরে চলা পদযাত্রা শেষ, উঠে আসল অনেক তথ্য

সত্যেন মোহন্ত, রায়গঞ্জ: কুলিক তুমি কেমন আছ? এমনই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সচেতনতা মূলক পদযাত্রা ও পর্যবেক্ষনের কাজ শেষ করলো একটি সংস্থা। কুলিক নদীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে চার দিন ধরে প্রায় ১১০ কিমি পদযাত্রা করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করল সংস্থার সদস্য সদস্যারা। গত ১৯শে এপ্রিল উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদের পাহাড়পুর এলাকা থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। রবিবার ইটাহার ব্লকের গোড়াহারে কুলিক-নাগর-মহানন্দার সংযোগস্থলে এই পদযাত্রা শেষ হয়। গত চার দিন ধরে কুলিক নদীর বর্তমান দুরাবস্থা পর্যবেক্ষন এবং তার প্রতিকার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থার সম্পাদক কৌশিক ভট্টাচার্য।

Top News

তিনি বলেন, কুলিক নদীর বর্তমান অবস্থা কেমন তা জানতে এবং এলাকার মানুষকে সচেতন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।কুলিক নদীর পারে চাষের জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নদী পার ভেঙ্গে পড়ছে এবং শহরের যাবতীয় নোংরা আবর্জনা গিয়ে পড়ছে কুলিক নদীতে। এই বিষয়ে চাষিদের সচেতন করার পাশাপাশি পৌর এলাকার যাবতীয় নোংরা আবর্জনা যাতে নদীতে গিয়ে ফেলা না হয় সে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে আবেদন করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দাবি ২০ বছর আগে নদীতে যে জল ছিল বর্তমানে তা নেই বললেই চলে। নদী থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল তুলে নেওয়ার ফলে জলস্তর অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছে। নদীর পাশের জমিতে কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কীটনাশক সার এবং প্রতিদিনই নদীপার দখল করে বাড়িঘর তৈরী করছে বাসিন্দারা। ফলে কুলিক নদীর বর্তমান করুণ অবস্থাই আমাদের চোখে পড়েছে। একদিকে নদীখাত যেমন মজে যাচ্ছে, অন্যদিকে জলের প্রবাহ কমছে। তাই সংস্থার উদ্যোগে আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। চারদিন ধরে কুলিক নদীর পার পর্যবেক্ষনের পর হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য জেলা শাসক ও রায়গঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সম্পাদক কৌশিক ভট্টাচার্য ।