বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্নায় প্রেমিকা, আত্মহত্যার চেষ্টা ছেলের বাবার

তুষার কান্তি বিশ্বাস, ইসলামপুরঃ ফের বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসলো প্রেমিকা। এবার ঘটনাস্থল চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে এলাকায়।

Top News

প্রেমিকার দাবি, দীর্ঘ দুই বছর ধরে ভালোবাসার নিবিড় সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে। শুধু তাইই নয়, সম্পর্কের জেরে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া এবং সহবাসও হয়ছিল তাদের। কিন্তু প্রেমিক মনজর আলম সহ তার পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে রাজি নয়। আর তাই শেষ পর্যন্ত বিয়ের দাবিতে ধর্ণায় বসে প্রেমিকা আফিমা খাতুন। এদিকে বিষয়টি মেনে নিতে না পারার জেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ছেলের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল। তাকে চোপড়ার দলুয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রেমিকা আফিমা খাতুন জানান, তাদের এই সম্পর্কের দু’বছর পেরিয়ে গেছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বিয়েতে এখন অস্বীকার করছে তার প্রেমিক মনজর আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশি সভা হলেও আদৌ সমস্যার সমাধান হয়নি। এমনকি প্রেমিকের বাড়িতে গেলেও প্রেমিকের পরিবারের লোকজন তাকে রীতিমতো মারধর করে এবং লঙ্কা মেশানো জল গায়ে ছিটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর সে ধর্নায় বসলেও তার প্রেমিকের বাড়ির লোকজন সেখানে আসেন নি বলে অভিযোগ। তবে এই ধর্ণা লাগাতার চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রেমিকা।

ছেলের মা আলিমান বেগম জানান, মিথ্যা মামলায় তার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। ওই মেয়ের সঙ্গে তার ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রামের সমস্ত লোক মিলে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের ওই অঞ্চলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, সব দলের লোক মিলে এবং তিন-চারটি গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়ে সালিশি সভায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ছেলেটিকে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু এই ধরনের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সইদুল রহমান বলেন, প্রথমে মেয়েটিকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। পঞ্চায়েতের বৈঠকে তাতে লাভ হয়নি। তবে ছেলেটিই দোষী। তবুও দুই পক্ষের দশ জন মিলে মিলিয়ে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখন ছেলেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ সিংহ জানান, এ বিষয়ে এর আগে একবার বসা হয়েছিল কিন্তু এদিন কি হয়েছে তা সঠিক জানা নেই। তবে সামগ্রিক বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।