মদন মোহনের রথ যাত্রার প্রস্তুতি শুরু কোচবিহারে

চন্দন দাস, কোচবিহারঃ আর এক সপ্তাহ পরে রথ যাত্রা। কোচবিহার শহরের গুঞ্জবাড়ি ডাংরাই মন্দিরে এখন তারই প্রস্তুতি চলছে। শুরু হয়ে গিয়েছে রথ রং করার কাজ। রথে কোন সমস্যা আছে কিনা তাও ভালোভাবে দেখে নেওয়া হচ্ছে। ১৩ জুলাই রথ যাত্রার আগের দিন এই রথ কোচবিহারের মদন মোহন মন্দিরে চলে আসবে। সেই সঙ্গে ওই দিন সন্ধ্যা আরতির পর ডাংরাই ও রাজমাতা মন্দিরের রাধা গোবিন্দ ও অন্যান্য বিগ্রহ মদন মোহন মন্দিরে চলে আসবে। পরের দিন মদন মোহন ও অন্যান্য বিগ্রহ রথে চেপে ডাংরাই মন্দিরে যাবে। ডাংরাই মন্দিরে এই সব দেব দেবী সাতদিন থাকবে। তারপর উল্টো রথেরদিন সকল দেব দেবীর বিগ্রহ আবার মদন মোহন মন্দিরে নিয়ে আসা হবে। রাজ আমলে হাতি এই রথ টানত বলে জানা গিয়েছে।

এখন রাজ পরিবারের দুয়ারবক্সী অমিয় দেব বক্সী রথের দড়িতে প্রথম টান দিয়ে রথ যাত্রার সূচনা করেন। তার পর কোচবিহার বাসী পরম উৎসাহে ও উদ্দীপনায় মদন মোহন ঠাকুরের রথ টেনে নিয়ে যায় ডাংরাই মন্দিরে। সাতদিন মদন মোহন ঠাকুর ডাংরাই মন্দিরে পূজিত হয়। এই সাতদিন ধরে ডাংরাই মন্দির সংলগ্ন গুজ বাড়ি এলাকায় মেলা চলে। রথের দিন মদন মোহন মন্দিরেও একদিনের জন্য মেলা বসে। রথ টানতে ও মেলা দেখতে মদন মোহন মন্দিরে শহরের মানুষের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মন্দির চত্বরে লটকা, জিলিপি, মাটির পুতুল ও নানা ধরণের খেলনার দোকান বসে। রকমারি বেলুনের দোকানও বসে। ডাংরাই মন্দির চত্বরে সাতদিন ধরে চলা মেলাতেও কোচবিহার শহরের মানুষ আনন্দে মেতে ওঠেন। রথ যাত্রার আগে রং করা হচ্ছে ডাংরাই মন্দির। রথ উপলক্ষ্যে এই রং করা হয়নি। জানা গিয়েছে, মন্দিরটি দীর্ঘদিন থেকে রং করা হয়নি। তাই রথের আগে তা সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড।

ডাংরাই মন্দিরের পুরোহিত গিরিন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য বলেন, “ ১৪ জুলাই রথ যাত্রা। তার জন্য রথ রং করার কাজ চলছে। রথের মধ্যে কোন অসুবিধা আছে কিনা ভালোভাবে দেখে নেওয়া হচ্ছে। ১৩ জুলাই শুক্রবার এই রথ মদন মোহন মন্দিরে চলে যাবে। ১৪ জুলাই মদন মোহন ঠাকুর অন্যান্য মন্দিরের বিগ্রহ রথে করে ডাংরাই মন্দিরে আসবে। রাজ আমলে হাতি টেনে আনত। এখন কোচবিহারের মানুষ এই রথ টেনে আনেন। রথের দড়িতে প্রথম টান দেন রাজ পরিবারের দুয়ার বক্সী অমিয় দেব বক্সী।”