Be Well

নীল-সাদা নয়, ঐতিহ্যবাহী পুরনো রং ফেরানোর দাবিতে বিক্ষোভ নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্কুলে

চন্দন দাস, কোচবিহারঃ স্কুলের পুরনো রং ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলনে নামল কোচবিহারের নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্ররা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্কুলের সামনে জড়ো হয় বর্তমান ছাত্র ও প্রাক্তনীরা। এরপর তারা প্ল্যাকার্ড হাতে স্কুলের নীল সাদা রঙের বিরোধিতা করে বিক্ষোভে ফেটে পরেন। ঐতিহ্যবাহী স্কুলের পুরনো রং ফিরিয়ে দেওয়া সহ বিভিন্ন দাবিতে এদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

প্রাক্তন ছাত্রদের অভিযোগ, স্কুলের ম্যানেজিং কমেটি এবং প্রধান শিক্ষক কাউকে না জানিয়ে চুপেচাপে স্কুলের রং পরিবর্তন করে দিয়েছে। এমনকি স্কুলের গেটে আঁকা বিদ্যালয়ের প্রতীক প্রদীপটিকে তারা মিটিয়ে দিতে চাইছেন। এদিন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা আক্ষেপের সুরে জানান, স্কুলের ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে অনেক ভালো শিক্ষক রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগে এবছর মাত্র ৩ জন ছাত্র একাদশ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠেছে। যারা এবছর উচ্চ মাধ্যমিক দিবে বলে একাংশের দাবি। এদিন প্রাক্তন ছাত্ররা বিদ্যালয়ের রং বদলানোর প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্কুলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কার্যত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নীল সাদার পরিবর্তে স্কুলের আগের রং ফেরানোর জন্য যদি আর্থিক সমস্যা থাকে, সেখত্রে প্রাক্তন ছাত্ররা নিজেরা চাঁদা তুলতেও প্রস্তুত বলে এদিন জানিয়ে দেওয়া হয়।

নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র বাপী দে বলেন, “স্কুলের আগের রং বদলে দেওয়া হয়েছে জানতে পাওয়ার পর বুকে আঘাত লাগে। কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি স্কুলের মধ্যে এটি অন্যতম। এই স্কুলগুলি সারা দেশে রাজার স্কুল বলে পরিচিত। কিন্তু যখন আমরা জানতে পারি স্কুলের আগের রং পাল্টানো হয়েছে, মনে খুবই আঘাত লাগে। তারই প্রতিবাদে আমরা প্রাক্তন ছাত্ররা এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তন ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের দাবি স্কুলের পুরনো রং ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা আজকে শিক্ষকদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমাদের দাবি পূরণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”

আরেক প্রাক্তন ছাত্র মহম্মদ জাকির হুসেন বলেন, “আমাদের স্কুলের রং বদলে দেওয়া হয়েছে। তারই প্রতিবাদে এই আন্দোলন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি এবং প্রধান শিক্ষক কাউকে না জানিয়ে চুপেচাপে পুরনো রং পরিবর্তন করে দেয়। আমরা প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্ররা এটা মেনে নিতে পারছি না। স্কুলের পুরনো রংয়ের সঙ্গে আমাদের ভাব ও ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। বাইরে স্কুলের গেটে থাকা প্রদীপের লোগোটিকে তারা মিটিয়ে দিতে চাইছেন। স্কুলের ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ খুবই ভালো। গোল্ড মেডেলিস্ট শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু এবার মাত্র ৩ জন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক দিবে। এ সবের প্রতিবাদে আমরা আজকে শিক্ষকদের স্মারকলিপি দিতে এসেছি। আর স্কুলের আগের রং ফিরিয়ে দেবার জন্য যদি আর্থিক সমস্যা হয় তাহলে আমরা প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্ররা চাঁদা তুলে রং করার কথা আমরা শিক্ষকদের কাছে দাবি জানিয়েছি।”

স্কুলের ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি নৃপেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “স্কুল রং করতে সরকার টাকা দিয়েছে। তবে নীল সাদা রং করাতে হবে এমন কোন নির্দেশ আছে কিনা আমার জানা নেই। আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এই বিষয়ে খোঁজ নিতে বলেছিলাম। কোচবিহারের অন্য কয়েকি স্কুলে নীল সাদা রং হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ এই রং করেছে। আজকে ছাত্ররা নতুন রং নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমেটিতে আলোচনা করব।” স্কুলের গেটে লোগো তুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনের ডিসিআরসি করা হয়েছিল এই স্কুলে। তাড়া হুড়োতে রং করা হয়েছিল। সেই সময় রং মিস্ত্রী সেটা এড়িয়ে যান। তারা হয়তো বুঝতে পারেনি। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। স্কুলের রঙের কাজ শেষ হয়নি। রং মিস্ত্রিকে বলা হয়েছে সেই প্রদীপ প্রতীকটি আঁকার জন্য।”

আমাদের খবর টেলিগ্রামে পেতে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে:  http://t.me/khaboria24
হোয়াটস্যাপে আমাদের সাথে যুক্ত হতে এই লিংকে ক্লিক করুন:  https://goo.gl/MF2taz