Be Well

বিজ্ঞান বোঝাতে নিজের হাতে তৈরি মডেল নিয়ে ক্লাসে যান বাপী স্যার

সত্যেন মোহন্ত, রায়গঞ্জঃ ফুঁসফুঁস কি ভাবে কাজ করে? স্নায়ু কোষের বা কি কাজ? ছাত্রছাত্রীদের কাছে জীবন বিজ্ঞানকে সহজ বোধ্য করতে মানব দেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সহ বিভিন্ন ধরনের মডেল বানিয়ে চলেছেন এক শিক্ষক। আর সে সব নিয়েই কখনও স্কুলের ক্লাস রুমে, কখনও আবার বাড়িতে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জীববিদ্যা বোঝানোর পালা চলছে। এভাবেই পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নিজের হাতে মডেল বানিয়ে বিজ্ঞানকে সহজেই বোধগম্য করে তুলে ছাত্রছাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শেরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের বাপী স্যার। তাঁর আসল নাম অরুণাংশু দাস। কিন্তু স্কুলে তিনি বাপী স্যার বলেই পরিচিত।

তাঁর কথায়, “কয়েক মাস আগে জীবন বিজ্ঞান বোঝাতে ক্লাসে একটি মডেল বানিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করলাম। দেখালাম খুব সহজেই তারা বিষয়টিকে বুঝে উঠতে পাড়ল, তারপর থেকেই শুরু। আজ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যথেষ্ট যথেষ্ট জনপ্রিয়।”

দশম শ্রেনীর পড়ুয়া রঞ্জিত সরকার ও পুষ্পিতা দেবশর্মার কথায়, “ মডেলকে সামনে রেখে বাপী স্যর আমাদের জীবন বিজ্ঞান বোঝান। ফলে খুব সহজে আমরা বিষয়টি বুঝে উঠতে পারি। আমাদের লিখে ফেলতেও তেমন কোন সমস্যা হয় না।”

কালিয়াগঞ্জ পুর এলাকার শেষ প্রান্তে শেরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে মূলত দুঃস্থ পরিবার থেকে আসা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেশী। ফলে তাঁদের স্কুলের ক্লাসে তো বটেই, অনেক দুঃস্থ পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের বিনে পারিশ্রমিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়েও পড়ান বাপী স্যর। তিনি ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতায় কিছু ছাত্রছাত্রী বরাবর বিজ্ঞানকে এড়িয়ে চলতে চায়। কারণ তাঁদের কাছে বিজ্ঞান সহজ বোধ্য হয়ে ওঠে না। ফলে নম্বরে সে ভাবে পায় না সেই সব ছাত্রছাত্রীরা। তাই বিজ্ঞানকে মুগস্থ না করে বোঝানোর জন্য তৎপর হন তিনি। আর সেখান থেকেই এই মডেল ভাবনা। যে সমস্ত সামগ্রী ব্যবহারের পড় ফেলে দেওয়া হয়, সেই সব সামগ্রী দিয়েই বিজ্ঞানের নানা মডেল তৈরী করেন বাপী স্যর।

এরমধ্যে খালি জলের বোতল, ভেঙ্গে যাওয়া খেলনা, গাড়ির চাকা পুতুল, থার্মোকল মডেল বানানোর জন্য ব্যবহার করেন। এভাবেই একের পর মডেল তৈরি করে ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের সহজেই বিজ্ঞানের পাঠ দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন বাপী স্যর। তাঁর সহ শিক্ষকদের কথায়, বিজ্ঞানের পাশাপাশি পঠন পাঠন নিয়েও ক্ত গবেষণা চলছে। বাপী স্যরের এটাও একটা গবেষণা। আর এর থেকে ছাত্রছাত্রীরা যে উপকৃত হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমাদের খবর টেলিগ্রামে পেতে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে:  http://t.me/khaboria24
হোয়াটস্যাপে আমাদের সাথে যুক্ত হতে এই লিংকে ক্লিক করুন:  http://bit.ly/2DpZN6l

ফেসবুকে আমাদের সাথে যুক্ত হতে এই লিংকে ক্লিক করে লাইক করুন: https://www.facebook.com/khaboria24/