শারীরিক চাহিদা না পূরণ হওয়ার কারণেই কী পরকীয়া জেনে নিন ?

ওয়েব ডেস্কঃ ‘পরকীয়া’ প্রেম। এই শব্দটি মাত্র চার অক্ষরের। আর তার কিন্তু ঝাঁঝ অতি মারাত্মক। সমাজে কত ধরণের প্রেমই তো আছে! তবে যত ধরণের প্রেমই থাকুক না কেন ‘পরকীয়া’প্রেমকে সবাই একটু ভিন্ন চোখে দেখে থাকেন। এটাকে অনেক সময় বিশেষ ধরণের প্রেমও বলা হয়ে থাকে! এই ধরনের প্রেমের সম্পর্ক গুলোতে আবেগীয় বিষয়টাই বেশি প্রাধান্য পায় বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। তাই নিম্নে আমরা আছ পরকীয়ার নিয়ে আলোচনা করছে। এক নজরে তা দেখে নিন…………..

Top News

পরকীয়া প্রেম কেন এবং কখন হয় ?

প্রতীকী ছবি

প্রত্যেক স্বামী এবং স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক কিছু চাহিদা থাকে। যখন এসব চাহিদা পূরণ হয় না, স্বপ্নভঙ্গের ব্যথায় কষ্ট পায়। মনের মধ্যে মূলত তখনই অন্য কিছু ঘুরতে থাকে আর ঠিক তখনি সূত্রপাত ঘটে পরকীয়ার। একে অপরের প্রতি উদাসীনতায় ধীরে ধীরে একজন স্বামী থেকে একজন স্ত্রীকে আলাদা করে ফেলে, বা একজন স্ত্রী থেকে স্বামীকে আলাদা করে ফেলে। বেড়ে যায় মানসিক ব্যবধান। যার কারণে শুরু হয় মনোমালিন্য। আর সেই কারনে শেষমেশ পরকীয়া জড়িত হয়ে পড়ে।

প্রেম করে বিয়ে করেছেন, এমন অনেকের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গীনি যখন অন্যের প্রেমে হাবুডুবু খান তখন একটি প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। পরকীয়া তাহলে কেন হচ্ছে? সত্যি কথা বলতে কি, কারণের অভাব নেই। শারীরিক অক্ষমতা, বয়সের পার্থক্য ইত্যাদি অনেক বিষয় চলে আসছে সম্পর্কের মাঝে। অনেক সময় সংসারে মানিয়ে নিতে না পারার সমস্যা থেকেও হচ্ছে।

পরকীয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে ঃ

১) পরকীয়ার প্রথম কারন হলো আপনি হয়তো আপনার স্বামী অথবা স্ত্রীকে সময় দিতে পারছেন না। একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার কারনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটা মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়। স্বামী অথবা স্ত্রী এমন কাউকে খুঁজতে থাকে যার সাথে তার একাকীত্ব ঘুচে নিতে পারে। এমন কাউকে খুঁজতে থাকা থেকেই কিন্তু পরকীয়ার সূত্রপাত হয়।

প্রতীকী ছবি

২) স্বামী অথবা স্ত্রী যদি চাকুরীজীবি হয়ে থাকে তাহলে তারা তাদের অফিসের বিপরীত লিঙ্গের কারও প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ভারতবর্ষের অধিকাংশ নারী বিবাহের পর বাকি জীবনটা গৃহবধূ হিসাবে পার করে দেয়। এসব গৃহবধূদের অনেকেই বিবাহ পরবর্তী একাকীত্ব ঘুচাতে তাদের কোন আত্নীয় সম্পর্কের অথবা প্রতিবেশী কারও সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়।

৩) অফিস সহকর্মী কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের পরকীয়ার গল্প শুনতে শুনতেই অনেকে নিজের জীবনেও সেই উত্তেজনা খুঁজতে গিয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

৪) সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সীরা সঙ্গীর প্রতি অবিশ্বস্ত বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া বিয়ের আগে প্রেমের সময়টায় কেউ কেউ একাধিক সম্পর্কে জড়ায়। তাদের যুক্তি হল বিয়ের পর তো আর এসব করা যাবে না। গবেষণায় দেখা যায়, এই ধরনের চরিত্রগুলো বিয়ের পরও নিজেদের আচরণ সামলাতে পারেন না। তাছাড়া প্রেমের সময় সঙ্গীর প্রতি অবিশ্বস্ততাও কিন্তু এক ধরনের পরকীয়া। ছেলে ও মেয়েরা কিন্তু একই কারণে পরকীয়ায় জড়ায় না।

প্রতীকী ছবি

৫) মেয়েরা মূলত পুরুষের বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগীয় ও অর্থ সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এবং শারীরিক চাহিদা থেকে পরকীয়ায় জড়ায়। অন্যদিকে পুরুষরা সাধারণত বহুগামী মানসিকতা থেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে থাকে। আপনার বন্ধু-বান্ধব পুরুষরা কেউ যদি পরকীয়া করে থাকেন,তারা দেখবেন তাদের পরকীয়ার গল্পে যৌন কর্মকাণ্ডের কথাই বেশি থাকে। অন্যদিকে নারীরা তাদের প্রেমিকের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগীয় কর্মকাণ্ড বলতে বেশি পছন্দ করে।

                 আমেরিকার একটি ম্যাগাজিনের জরিপে জানা যায়, চাকরিজীবী বিবাহিত নারীরা তাদের কর্মস্থলেই লাভারদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে থাকেন। আমেরিকান সমাজে অবিশ্বস্ততার হার দিনে দিনে বাড়ছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে জানা যায় যে,২৫ শতাংশ পুরুষ পরকীয়া করছে এবং ১৭ শতাংশ নারী তাদের স্বামীদের প্রতি বিশ্বস্ত নয়।

পরকীয়া থেকে কিভাবে বিরত থাকবেন গবেষণা থেকে জানা যায়, সন্তানের ভবিষ্যৎ অনেক মানুষকে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি করা থেকে বিরত করে রাখেন। এবং অনেকে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ালেও সন্তানের ভবিষ্যতকে গুরুত্ব দিয়ে পরকীয়া সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসেন। আমাদের মনে রাখতে হবে মানুষের মনের মধ্যে সব সময় ভালো ও মন্দের দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি মানুষের মনের আকর্ষণ স্বাভাবিক। সেই আকর্ষণকে মোকাবেলা করাটাই হলো একজন ভালো মানুষের কাজ। মানুষের মনের মন্দ চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে মানুষকে সাহায্য করে তার শিক্ষা, তার ধর্ম, তার পারিবারিক মূল্যবোধ এবং আরো অনেক কিছু।

প্রতীকী ছবি

যদি আপনি পরকীয়ায় জড়িত হয়ে থাকেন তাহলে একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন আপনি যা করছেন তাতে করে আপনার সঙ্গী কি ভীষণ ভাবে প্রতারিত হচ্ছে না? স্বপ্ন আর ভালবাসা নিয়ে সারা জীবন এক সাথে কাটিয়ে দেওয়ার জন্য আপনারা একি বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই বন্ধনকে আরও মজবুত করুন, প্রয়োজনে আপনার সঙ্গীর সাথে শেয়ার করুন আপনি কি চান, আবার এটাও খেয়াল করুন আপনার সঙ্গী আপনার কাছ থেকে কেমনটা আশা করছে। দু জনেই যদি দুজনের ভালো লাগা,মন্দ লাগা গুলোকে শ্রদ্ধা করেন, নিজেদের মানসিক দূরত্ব কমিয়ে ফেলেন তাহলে দেখবেন জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে। পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে অনেকটাই। তাতে সেই পরকীয়া নামে চারটি অক্ষর আপনার কাছ থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে। আর আপনার পরিবার পরিজন বা প্রিয়জন খুবই খুশিতে জীবন অতিবাহিত করছে।