দাঙ্গার ভয় না থাকলে খড়কুটোর মত উড়ে যেত ক্ষমতার দাম্ভিকরা

(বাম- তৃণমূলের পর বাংলায় বিজেপির উত্থান ঘটছে। আর তা নিয়েই একটি ভিন্নধর্মী লেখা। বাস্তবিকতার সাথে মিল রেখে। আবো, জয়নাল ও উজ্জল চরিত্র গুলো আপনার চোখে ভাসবে, অনুভব করতে পারবেন। কিন্তু সকলেই কাল্পনিক। আজ দ্বিতীয় কিস্তি।)

Top News

সুমিতেশ ঘোষঃ দুদিন বাদেই ভোট। ভোট তো দিতেই হবে জয়নাল আর আবোকে। আর ভোট টা দিয়েই ক্ষমতার দম্ভকে উচিত শিক্ষা দিতে চান তাঁরা। কিন্তু ক্ষমতার বিরুদ্ধে গিয়ে কাকে দেবেন ভোট? রাত জেগে ভাবতে থাকেন দুজন। আবো চান লাল পার্টিতে ফিরে যেতে। কিন্তু জয়নাল রাজি নয়। তাঁর কোথায় যেন মনে হচ্ছে লালেদের ভোট দিলে তাদের লক্ষ্যপূরন হবে না।

আবো বোঝায় জয়নালকে, “নাল পাট্টি হামাক কোনোই নাই দেয় ঠিকে। কিন্তুক নেতারঘর এমার নাকান বয়া না ছিলেক। দেখিস না, যায় জোগালি করি খাইচে, তায় এলা নেতা হয়া চাইর চাকার গাড়ি নিয়া ঘুরি বেড়ায়। টাউনত বাড়ি করিচে। কলিকাতাত ফ্ল্যাট কিনিচে। আরও কতো কি। তুই সোগে জানিস।” কিছুক্ষণের জন্য থেমে আবার দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করেন আবো, “পঞ্চায়েত ভোটত, হামরা তো ওমাকে ভোট দিলং হয়। হামাক ভোটে না দিবার দিল। কমলদা ভোট দিবার গেইছে দেখিয়া উয়াক ধরিয়া কি ডাঙ্গে না ডাঙ্গাইল। আগত এমন নাই হয় কুনোদিন।”

জয়নাল উত্তেজিত হয়ে ওঠে, “ছারেক তো মাও। তোর ফম নাই। ডাকঘরাত কত মানসির বাড়ি পোড়া দিচে উমরা। কি না কয় উমাক, মজিদ মাস্টর। সগায় জানে উয়ার নাম। হামার এটেকোনা, ডেইলি পাট্টি অফিসত বিচার বসাইচে। আর কাকো না কাকো ধরি আনি ডাঙ্গাইচে। উমরাই না এলা এটেকোনা আসি নেতা হয়া বসি আচে। এলা উমরাই সোগ।”

কথা বলতে বলতেই রাত কেটে যাওয়ার জোগাড় হয়। কিন্তু কেউ আর ভোট নিয়ে সিধান্তে পৌঁছাতে পারলেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই উজ্জলের বাড়ির দিকে রওনা হলেন জয়নাল। এক সাথে কতবার মিছিলে হেঁটেছেন জয়নাল আর উজ্জল। একবার তো মার খেয়ে দুজনে পাশাপাশি এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে পড়েছিলেন। পার্টি বাদ দেওয়ার পর সেভাবে আর উজ্জলের সাথে কথা হয় নি জয়নালের। শুনেছেন, পার্টির উপড়ে বিরক্ত হয়ে সেও অনেক দিন থেকে বসে রয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, ভোটের মুখে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেবেন উজ্জল। না হলে ভোট টা তো দিবেনই। জয়নাল নিজেও ভাবে, এদেরকে শিক্ষা দিতে হলে গেরুয়া শিবিরেই যোগ দেওয়া ঠিক। কিন্তু দাঙ্গার ভয় পায় সে।

ভাবতে ভাবতেই উজ্জলের বাড়িতে এসে হাজির হন জয়নাল। উজ্জল তখন গরুর জন্য খড় কাটছিলেন। পাশেই বসে পড়েন জয়নাল। বলেন, “উজ্জল দা কাইল বাদে উদিনকা ভোট। ভোট দেওয়া খাইবে। কিন্তুক এমাক আর মুই ভোট দিবার না চাং।”
জয়নালের মুখের কথা কেড়ে নে উজ্জল, “এইডা দিল্লির ভোট। দিল্লির লোকরেই দেওন লাগবো। ফাও এগুলারে ভোট দিয়া লাভ নাই।”

“কিন্তুক ওমরা আসিয়া তো দাঙ্গা লাগে দিবে।”
“ক্যাডা কইছে। এই গ্রামে তুই আমি কতদিন এক সাথে পাট্টি করছি। আমি তোরে ডাঙাবার যামু। ভোটে জিতবার লাইগা মিছা কথা কয়। তর মারে যায়া কইস কিছুই হব না। কিন্তু এই কুলাঙ্গার গুলারে তো শিক্ষা দেওন নাগবো।”

আরও অনেক কথা হয় ওঁদের মধ্যে। জয়নাল বলার থেকে শুনেছে বেশী। কথা শেষ বাড়ির দিকে রওনা হয়েছে। কিন্তু মনের মধ্যে সেই খটকা কিছুতেই দূর হয় নি। শুধু একটা কথা বারবার মনে হচ্ছিল জয়নালের, মানুষের ক্ষোভ এতটাই তীব্র যে এই দাঙ্গার ভয় না থাকলে খড়কুটোর মত উড়ে যেত ক্ষমতার দাম্ভিকরা।