দাউদের ডি কোম্পানির কাছে ক্রিকেট -বেটিং ছিল ‘সৎ কাজ, চমদ্রমোহন পুপ্পালার লেখা বইএ মিলল এমনি তথ্য

ওয়েব ডেস্ক, ১৮ মেঃ ছোট থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন দাউদ। বাবা ছিলেন হেড কনস্টেবল। ছোটবেলার সেই স্বপ্ন আর পুরন হয়নি। আর তাই হয়তো তিনি চেয়েছিলেন ক্রিকেট দুনিয়াটাকেও নিজের আঙুলের ইশারায় নাচাতে। আর তাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি গড়াপেটার দুনিয়াতেও পা জমিয়েছিলেন তিনি। শুধু ব্যবসা নয়, দাউদের এই জগতে প্রবেশের পিছনে যে  কারণ রয়েছে সেটা হলো তাঁর ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা। সালটা ছিল ১৯৯৯। ক্রিকেট দুনিয়া তখন  পরিচিত হয়েছিল ‘ম্যাচ ফিক্সিং’, ‘বেটিং’ প্রভৃতি শব্দের সঙ্গে। আর এ সবের নেপথ্যে উঠে এসেছিল একটা নাম, ‘দাউদ ইব্রাহিম’। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই শারজা থেকে কেপটাউন, একের পর এক খেলা গড়াপেটা করা হতো। কখনও অধিনায়ককে টাকা দিয়ে, কখনও এক বা একাধিক ক্রিকেটারকে টাকা দিয়ে। কিন্তু দাউদ কোনও দিনই একে খারাপ পেশা হিসেবে ভাবেননি। কারণ, তাঁর মনে হতো, কাউকে খুন না করে শুধুমাত্র টাকা দিয়েই নিজের কাজ উদ্ধার হয়ে যাচ্ছে।

Top News

চমদ্রমোহন পুপ্পালার লেখা বই ‘নো বল: দ্য মার্কি ওয়ার্ল্ড অফ ম্যাচ ফিক্সিং’-এ বিস্তারিত ভাবে এই বিষয়ে লেখা হয়েছে। এই বইটি মূলত পুলিশ ও বুকিদের কথোপকথন ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের উপর নির্ভর করে লেখা হয়েছে। এ ছাড়াও বুকি ও ম্যাচ ফিক্সিং-এ অভিযুক্ত বেশ কিছু নামকরা ক্রিকেটারের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তাই ম্যাচ গড়াপেটায় ভারতীয় ক্রিকেটের তৎকালীন অবস্থা এই বইতে উঠে এসেছে। এখানে লেখা হয়েছে, ম্যাচ ফিক্সিং-এর জগতে দাউদের প্রবেশ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। একজন গ্যাংস্টার এই ফিক্সিং-এর মাধ্যমে অনেক টাকা রোজগার করতে পারে। এর জন্য কাউকে মারতে হয় না। কারও জমিও ছিনিয়ে নিতে হয় না। বস্তি উচ্ছেদ করতে হয় না। কাউকে ভয়ও দেখাতে হয় না। শুধু টাকা ছড়াতে হয়। তার বদলে আরও বেশি টাকা আসে। বইয়ের লেখক বলেছেন, দাউদের ডি কোম্পানির কাছে ফিক্সিং ছিল ‘সৎ কাজ’। তাঁরা ভাবতেন না, যে কোনও আইনবিরুদ্ধ কাজ করছেন তারা । তাঁদের শুধু ক্রিকেটারদের টাকা দিয়ে নিজের কথা মতো কাজ করাতে হতো। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার জগতে ম্যাচ ফিক্সিং ছিল ‘হোয়াইট কলার বিজনেস’। ১৯৯৯-২০০০ সালে বেটিং-এর সঙ্গে সবার পরিচয় হয়। ম্যাচ ফিক্সিং-এ যুক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের তৎকালীন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন ও ব্যাটসম্যান অজয় জাদেজার কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে অলরাউন্ডার মনোজ প্রভাকর ও ভারতকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেওয়া অধিনায়ক কপিল দেবের উপরেও গড়াপেটার কালি লাগে।