পরিস্থিতি সামলাতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রী উচিত এখনই পদত্যাগ করাঃ সোমেন মিত্র

ওয়েব ডেস্ক, ২১ জুনঃ “পরিস্থিতি সামলাতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রী উচিত এখনই পদত্যাগ করা৷” ভাটপাড়ায় ঘটনায় রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে এমনি মন্তব্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র৷ এদিন তিনি বলেন, “এরাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা মেনে কাজ হয় না, রাজ্যে যে আইন-শৃঙ্খলা মানা উচিত সেটা সবাই ভুলে গেছে, এই প্রতিক্রিয়া সরূপ ভাটপাড়ার ঘটনার ফের প্রমাণিত হল৷ অশান্তির জন্য ভাটপাড়া সমস্থ খবরের শিরোনামে পৌঁছে গেছে৷ কোনও খবর শুরুতেই বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকে ভাটপাড়া ঘটনা। সব জানার পরও পুলিশের ভূমিকা কোথায় গিয়ে পড়েছে। পুলিশ কেন শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ৷ পরিস্থিতি সামলাতে না পারেন তাহলে নিজ স্থান থেকে তিনি এখনই পদত্যাগ করুক৷ এভাবে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন মাশুল গুনবে, মিটবে না রক্তেত দাগ, ঘর ছেড়ে রাস্থায় পড়ে রইবে মানুষজন  এটা তো হতে পারে না৷” পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেভাবে যাচ্ছে তাতে একটা সাম্প্রদায়িক উদ্বেগ ছড়াচ্ছে৷ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “সব দল গুলোর সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠকের পরও একই রকম হাল রয়েছে৷ পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন নেই। এর দায় মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে৷”

Top News

ভাটপাড়াকে ঘিরে একের পর এক রণক্ষেত্র চেহারা, রক্তাক্ত চেহারার ছবি আমরা দেখেছি। ভাটপাড়ার থানার সামনে আনুমানিক ২০০ গজের মধ্যেই চলে বোমাবাজি। চলে গুলির লড়াই। কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে পড়ে, যে ভাটপাড়ার নতুন থানার উদ্বোধন করতে রওনা হয়েও, মাঝরাস্তা থেকে নবান্নে ফেরত যান ডিজি বীরেন্দ্র। ভাটপাড়ার এই রণক্ষেত্র চেহারার পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব মলয় দে, পাশাপাশি ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডিজি সহ শীর্ষ পুলিশ কর্তারা। ভাটপাড়ায় বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতী স্থানীয়দের সাথে হাত মিলিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চালাচ্ছে হামলা প্রতিনিহত। আতঙ্কে ঘর ছাড়া বহু মানুষ। অনেকের বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। শুনশান পরিবেশ বিরাজ করছে গোটা ভাটপাড়া।

এদিন এবিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন,‘‘ভাটপাড়ায় বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতী স্থানীয়দের  শান্তি বিঘ্নিত করছে। সেই খান কার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জগদ্দল এবং ভাটপাড়া থানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার হয়েছে।” তিনি বলেন, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জয় সিংহকে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে  মৃত্যু হয় রামবাবু সাউ ও ধরমবীর সাউ নামে দুই যুবকের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছে ৫ জন। চারিপাশে বিরাজ করছে এক থমথমে পরিবেশ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে বৈঠক করার পর জানিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভাটপাড়া এবং সংলগ্ন এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত এবং কড়া হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সেই সঙ্গে দাগী অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে বলেছেন।

উল্লেখ্য, ভাটপাড়ায় এতদিন পুলিশ ফাঁড়ি ছিল। জগদ্দল থানার অন্তর্গত ছিল সেই ফাঁড়ি। ভোট পরবর্তী হিংসায় গত এক মাস ধরে উত্তপ্ত ভাটপাড়া। শান্তি ফেরানোর চেষ্টায় বার বার ব্যর্থ হতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে জগদ্দল থানা ভেঙে ভাটপাড়া থানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।