কুপিয়ে খুন করার পর ফেসবুক লাইভে এসে ভুল স্বীকার নাতির

ওয়েব ডেস্ক, ১০ জুনঃ ঠাকুমাকে কুপিয়ে খুন করার পর ফেসবুকে ঠাকুমাকে লাইভ করে নিজের অপরাধ স্বীকার করল মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি। হুগলি জেলার ব্যান্ডেলের ক্যাওটা কুলতলার ঘটেছে এই ভয়াবহ ঘটনা। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম ইন্দ্রনীল রায়।

Top News

পুলিশ সূত্রে খবর, আজ সকালে বাড়ির একটি ঘরে বসে গল্প গুজব করছিলেন ইন্দ্রনীলের বাবা-মা এবং ঠাকুমা। অতর্কিতেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে মা-বাবা এবং ঠাকুমার দিকে তেড়ে আসে ইন্দ্রনীল। ইন্দ্রনীলের মা-বাবা দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও বয়সের ভারে তাড়াতাড়ি ঘরে ছেড়ে বেরতে পারেননি ইন্দ্রনীলের ঠাকুমা। এরপরেই নিজের ঠাকুমাকে কুপিয়ে খুন করে ওই যুবক।

পুলিশ জানিয়েছে, ইন্দ্রনীলের মা-বাবাও আঘাত পেয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁরা। এলাকায় ভালো ছাত্র হিসেবেই পরিচিত ইন্দ্রনীল। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীরামপুর কলেজে ঢোকার পরপরই অসৎসঙ্গে পড়ে মারাত্মক ভাবে নেশাসক্ত হয়ে পরেছিল ইন্দ্রনীল। রবিবার রাতেও অতিরিক্ত নেশা করেছিল সে। তারপর সোমবার সকাল হতেই সামান্য কোনও কারণে বাড়ির লোকের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয় ইন্দ্রনীলের। এরপরেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে সবার দিকে তেড়ে যায় সে। এ যাত্রায় ইন্দ্রনীলের মা-বাবা প্রাণে বেঁচে গেলেও নাতির হাতে খুন হন বৃদ্ধা ঠাকুমা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঠাকুমাকে খুনের পর দরজা বন্ধ করে বসেছিল ইন্দ্রনীল। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে ঠাকুমার দেহ। সে সময় পুলিশের উপরেও চড়াও হয় ইন্দ্রনীল। এরপর বৃদ্ধার দেহ নিয়ে পুলিশ ঘরের বাইরে আসতেই ফের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয় ওই যুবক। এরপরই ফেসবুক লাইভ করে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানায়, ঠাকুমাকে সেই খুন করেছে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ঘরের তালা ভেঙে ইন্দ্রনীলকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

প্রতিবেশীদের মতে, ইন্দ্রনীল নেশা করত সেটা অনেকেই জানতেন। মাঝে মাঝে চিৎকার চেঁচামেচি, ঝগড়ার আওয়াজ আসত রায়বাড়ি থেকে। বরাবরের শান্ত, মেধাবী ইন্দ্রনীল যে এমন ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাতে পারে তা স্বপ্নেও ভাবেননি প্রতিবেশীরা। তবে ইন্দ্রনীলের পরিবারের দাবি অতিরিক্ত নেশা করার ফলেই ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে ইন্দ্রনীলের, তার জেরেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে সে।