ভয় থেকে ঘৃণার জন্ম হয়, খুনের হুমকির পরেও শাসককে সাবধান করলেন দিনহাটার প্রতিবাদী মুখ জয়গোপাল ভৌমিক

সুমিতেশ ঘোষঃ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের এলাকার গণতন্ত্রহীনতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রতিবাদ তুলে ধরছিলেন প্রতিনিয়ত। আর সেই কারণেই হুমকির মুখে পড়তে হল কোচবিহারের দিনহাটা নাগরিক মঞ্চের কর্মকর্তা জয়গোপাল ভৌমিককে। খুনের হুমকি দেওয়া হল তাঁকে।

Top News

ঘটনাটি ১৮ এপ্রিল রাতের। দিনহাটা হাসপাতাল মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলেন জয়গোপাল বাবু। আর তখন এক অপরিচিত যুবক মোটর সাইকেল নিয়ে আসে। অন্য কোন কথা নয়, একদম সরাসরি আক্রমণ। ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বড় বড় কথা লিখছিস?’ এরপরেই অশালীন গালাগাল। প্রকাশ্যে রাস্তার উপড়ে, ভিড়ের মধ্যে প্রায় ১০ মিনিট ধরে। ওই যুবক চলে যাওয়ার পর পুলিশ আসে। জয়গোপাল বাবুর মুখে সমস্ত ঘটনা জানতে পারে পুলিশ। তিনি থানাতেও যান পুলিশের আধিকারিকদের সাথে কথাও হয় তাঁর। পরের দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আর ফেসবুকে নিজের ওয়ালে তাঁকে খুন করার হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। যা আজ ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও দিনহাটায় যখন বাম-বিজেপির দলীয় কার্যালয় গুলো ভাঙচুর করা হচ্ছিল। তখনও প্রতিবাদ জানিয়ে দিনহাটা শহরের প্রাণ কেন্দ্র ফুলদীঘির পাড়ে মাইক বেঁধে পথসভা করেছিলেন। আর তাঁর জন্য শাসক দলের এক নেতা ও তাঁর বাহিনী জয়গোপাল বাবুর বাড়িতে গিয়ে শাসিয়ে এসেছিলেন। সেটাও ফেসবুকের মাধ্যমে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছিলেন জয় গোপাল বাবু।

শুধু জয়গোপাল বাবু নন, ফেসবুকে শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ব্যাক্ত করে বিবাহ সূত্রে ভিন রাজ্যের বাসিন্দা দিনহাটার মহিলাকেও কোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। দিনহাটা ফিরতেই তাঁর উপড়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। তাঁর খবরও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন এলাকায় উঠে থাকে। তাঁর বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চারও হন। কিন্তু দিনহাটার ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ একটু অন্য রকম। গত পঞ্চায়েত নির্বাচন সকলের মনে আছে নিশ্চয়। কোচবিহার জেলার দিনহাটায় সব থেকে বেশী উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। লাগাতার সংঘর্ষ, কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল গোটা দিনহাটা। না কোন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের নিজের মধ্যে গণ্ডগোলে। যখন গোষ্ঠী কোন্দলের উত্তেজনায় দাউদাউ করে জ্বলছিল দিনহাটা, তখন শাসক দলের রাজ্য নেতৃত্ব কোন ব্যবস্থা নেয় নি। যখন নিয়েছিল, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। কলেজ ছাত্র অলক নিতাই দাস সহ ৩ জন খুন হয়ে গিয়েছেন। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। লাগাতার সেই রাজনৈতিক উত্তেজনায় শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী সহ বেশীর ভাগ সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তেমনি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। শুধু অল্প কিছু মানুষ প্রতিবাদটা জিইয়ে রেখেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম জয়গোপাল ভৌমিক।

আজ কথা হচ্ছিল তাঁর সাথে। তিনি বললেন, “আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাবো। অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো না। এতে খুন হতে হলে হবো। কিন্তু দিনহাটার অসংখ্য মানুষ আজ ভীত সন্ত্রস্ত। যারা ভাবছেন ভয় দেখিয়ে সবাইকে দমিয়ে রাখবেন, আর আজন্ম ক্ষমতা ভোগ করে যাবেন। তাঁরা জানবেন, ভয়ের থেকে ঘৃণার জন্ম হয়। আর সেটা দিনহাটার মানুষের মধ্যে হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্র যার ফল ভোগ করতে হবে।”