কাকার কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুনের হুমকি, অপমানে আত্মঘাতী ভাইঝি  

অর্পণ সিংহ, হাওড়াঃ কাকার কু প্রস্তাব ও বিয়ে করার প্রস্তাব মেনে না নেওয়ার জন্য কিশোরী ভাইঝিকে খুনের হুমকি। তারপর সেটা নিয়ে পারিবারিক অশান্তি। সেই অশান্তি জেরে অপমানিত বোধ হওয়ায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন কিশোরী ভাইঝি। মৃত ওই ভাইঝির নাম আজমিনা খাতুন(১৯)। ঘটনাটি ঘটেছে ডোমজুড় থানার বাঁকড়া কবর পাড়ার নতূন বস্তি এলাকায়। ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। তারপর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মৃত আজমিনার বাবা মহম্মদ সাবির খান আজমিনাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Top News

স্থানীয় জানা গিয়েছে, ডোমজুড় থানা এলাকার বাঁকড়া কবর পাড়ার নতূন বস্তির বাসিন্দা মহম্মদ সাবির পেশায় ফলের জুস বিক্রেতা। তারা চার ভাই। ছোট ভাই মহম্মদ জাসিম খাঁন গত এক বছর ধরে নিজের ভাইঝি আজমিনাকে উত্যক্ত করতো এবং কুপ্রস্তাব দিত। এমনকি তাকে বিয়ে করবে বলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সে জানায়। স্বভাবতই একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী আজমিনা এই প্রস্তাব মেনে নেয় নি এবং কাকার কু দৃষ্টির কথা সকলকে জানায়। পরে পরিবারের সম্মান এবং জসিমের জেদ ও আত্মহত্যার হুমকির কাছে নতি স্বীকার করে অন্যরা বিয়েতে রাজী হলে আজমিনা ও তার বাবা ও মা রাজী হয় নি। এই নিয়ে একটা চাপা অশান্তি ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজমিনার বাবা ও মা কেনাকাটা করতে যায়। পরে এসে বাথরুমে আজমিনাকে গলায় ফাঁস জড়ানো মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। রবিবার সকালে বাঁকড়া ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করে আজমিনায বাবা মহম্মদ সাবির খান। পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত কাকাদের ও পরিবারের অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনায় ঈদের আগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকা জুড়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।