সপ্তম দফা ভোটের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

ওয়েব ডেস্ক, ১৫ মেঃ সপ্তম দফার ভোটের আগেই নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে সরাসরি বিজেপির নীলনকশা বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ল নির্বাচন কমিশন। বুধবার সরাসরিই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল দেশে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বকলমে বিজেপির শাখা সংগঠনে পরিণত হওয়া নির্বাচন কমিশন। বিজেপির কথামতো না চলায় শুধু রাজ্যের স‍ৎ ও দক্ষ আমলা হিসেবে পরিচিত অত্রি ভট্টাচার্যকেই স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকে সরানো হয়নি, কলকাতার প্রাক্তণ পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকেও এডিজি সিআইডির পদ থেকে সরিয়ে রাজ্যের বাইরে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে নজরবন্দি করা হয়েছে।

Top News

সূত্রের খবর, এদিন দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পরেই স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজীব কুমারকে অপসারণের কথা ঘোষণা করেন ‘বিজেপির দালাল’ হিসেবে পরিচিত উপনির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। শুধু তাই নয়, লজ্জাজনকভাবে শুধু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা আটকাতে নজিরবিহীনভাবে বৃহস্পতিবার রাত দশটার পরে প্রচার নিষিদ্ধের ফরমান জারি করা হয়েছে। স্বাধীন ভারতে অতীতে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচন কমিশন এমন নির্লজ্জভাবে দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে কিনা, তা মনে করতে পারছেন না কমিশনে কাজ করা প্রাক্তণ আধিকারিকরা।

কমিশন সূত্রে খবর, চলতি লোকসভা ভোটে সাধারণ মানুষের ভোটে ফের ক্ষমতায় ফেরা অসম্ভব বুঝেই নির্বাচন কমিশনকে কব্জা করতে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা অঙ্ক কষেই নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন সুনীল অরোরাকে। কর্মজীবনে যিনি সহকর্মীদের কাছে বিজেপি দালাল হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।  ভোট নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েকদিন আগেই কমিশনে নিজেদের পাল্লা ভারী করতে আর এক নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয় বিজেপির কট্টর সমর্থক  হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের প্রাক্তণ চেয়ারম্যান সুশীল চন্দ্রাকে। আর তাঁদের যোগ্য সঙ্গতকার হয়ে উঠেছেন উপনির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। ছাত্রজীবনে যিনি আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের অন্যতম নেতা ছিলেন।

ভোট ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসকে আটকাতে বিজেপি নেতাদের নির্দেশমতো একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। অনুজ শর্মা, জ্ঞানবন্ত সিংয়ের মতো স‍ৎ আধিকারিকদের সরিয়ে কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদে বসানো হয়েছিল রাজেশকুমার ও এন রমেশবাবুর মতো বিজেপির ইয়েসম্যান হিসেবে পরিচিত নানা অভিযোগে অভিযুক্ত দুই পুলিশ আধিকারিককে। বেনজিরভাবে অজয় নায়েক ও বিবেক দুবের মতো দুই সংঘ ঘনিষ্ঠ প্রাক্তণ আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

পাশাপাশি বিজেপির হয়ে ভোট করানোর জন্য বেছে বেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশকে কেন্দ্রীয় বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাঙ্খিত ফল না মিলতে পারে সেই আশঙ্কায় শেষপর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে স্বাধীন ভারতে প্রথমবারের মতো ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করার পথে হাঁটলেন বিজেপির শাখা সংগঠনে পরিণত হওয়া নির্বাচন কমিশনে থাকা বিজেপির ঘনিষ্ঠ আধিকারিকরা।