সরকারি ধান ক্রয় শিবিরে ওজনে কারচুপির অভিযোগ কৃষকদের

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদা: সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির সরকারি শিবিরে ওজনে কারচুপি ও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন কৃষকরা৷ তবে এনিয়ে কৃষকরা এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নি৷ তাঁরা সেই অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মহকুমাশাসক৷

Top News

     গোটা রাজ্যের সঙ্গে মালদা জেলাতেও শুরু হয়েছে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার শিবির৷ এবছর সরকারিভাবে ধানের দাম কুইন্টাল প্রতি ১৭৫০ টাকা৷ এর সঙ্গে বস্তা ও শ্রমিকের খরচ হিসাবে প্রতি কুইন্টালে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে আরও ২০ টাকা৷ আজ সকালে নিজের ৬৪ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে আসেন মহম্মদ সানোয়ার আলি নামে এক কৃষক৷ তাঁর অভিযোগ, বাড়িতে তিনি ওজন করে ৬৪ কুইন্টাল ধান বিক্রির জন্য সরকারি ক্যাম্পে নিয়ে আসেন৷ এখানে মিল মালিকরা তাঁর ধান ওজন করে জানান, তাঁর মোট ধান হয়েছে ৬১ কুইন্টাল ৮ কিলো৷ জিজ্ঞেস করে তিনি জানতে পারেন, এখানে প্রতি কুইন্টালে ৫কিলো করে ধলতা কাটা হয়েছে৷ আর যদি কোনও বস্তায় ধানের ওজনে খুচরো হিসাব থাকে, তবে মূল হিসাবে তা ধরা হচ্ছে না৷ তিনি চান, তাঁকে ৬৪ কুইন্টাল ধানের হিসাব অনুযায়ী টাকা দেওয়া হোক৷ এনিয়ে ক্যাম্পে কাউকে কিছু বলা যাচ্ছে না৷ সরকারি আধিকারিকরাও তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করছেন৷ একই বক্তব্য আরেক কৃষক আইনুল হকেরও৷

তিনিও বলেন, এখানে মিল মালিকরা বলছেন, প্রতি কুইন্টালে ৫ কিলো করে ধানের ওজন কাটা হবে৷ মিল মালিকরা যেমনভাবে বলবেন, তেমনভাবেই তাঁদের ধান বিক্রি করতে হবে৷ এখানে তাঁদের কোনও কথা বলার অধিকার নেই৷ লেবার চার্জের নামে তাঁদের কাছে প্রতি কুইন্টালে ২০ টাকা করে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বার বার ঘোষণা করছেন, সরকারি শিবিরে কোনও কৃষককে হয়রানি করা যাবে না৷ কিন্তু এখানে তা মানা হচ্ছে না৷ এখানে সরকারি আধিকারিকরাও মিল মালিকদের সঙ্গে যুক্ত৷

সদর মহকুমাশাসক পার্থ চক্রবর্তী এনিয়ে বলেন, সরকারি শিবিরে ধান বিক্রি করার জন্য ১৪০০ কৃষক রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন৷ এখনও পর্যন্ত ৬১৮ জন কৃষক নিজেদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করেছেন৷ ক্যাম্পে খাদ্য দপ্তরের একজন ইন্সপেকটর ও একজন সাব ইন্সপেকটর নিয়োগ করা হয়েছে৷ তাঁদের নেতৃত্বেই ধান কেনার কাজ চলছে৷ তাঁদের পক্ষে সবসময় ওজনের জায়গায় বসে থাকা সম্ভব নয়৷ এরপরেও কারোর কোনও অভিযোগ থাকলে তাঁরা যেন লিখিতভাবে তা জমা দেন৷ তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷