গঙ্গাসাগর সঙ্গম রহস্যের এক অন্যতম নাম। কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ? চলুন জানি

ওয়েব ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারিঃ ভারতীয় আধ্যাত্মিকতায় না জানি কত রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। তেমনি রহস্যের এক অন্যতম স্থান গঙ্গা সাগর সঙ্গম। ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মহাতীর্থের নাম এই গঙ্গাসাগর।স্কন্দ পুরাণে উল্লেখ রয়েছে মানব জাতি অন্য সকল তীর্থ দর্শন, দান, তপস্যা, দেবপূজা, যজ্ঞাদি সব মিলে যে ফল লাভ করে থাকে, তার সম্পূর্ণ পুণ্যলাভ একটি গঙ্গাসাগর সঙ্গমে স্নানে হয়। পদ্ম পুরাণে আছে- কলিযুগে একমাত্র গঙ্গাকেই আশ্রয় করাই নাকি মানব জাতির কর্তব্য। তবে এখন বিষয়টি হল কেন গঙ্গাসাগরে স্নান করার জন্য এত উন্মাদনা? কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? তবে একটি কথা এই যে মকর সংক্রান্তির সময় গঙ্গাসঙ্গম তীরে যে আধ্যাত্মিকতার এক অন্য জগত তৈরি হয়ে যায়, যারা কখনও হয়তো গঙ্গাসঙ্গমে যাননি তারাও যেন অনুভব করতে পারে এই পরিবেশকে। তাহলে কি প্রাচীন কাল থেকেই যে শক্তি উৎপন্ন হয় সেটাই কি সম্পূর্ণ ভারতবর্ষ কিংবা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পরে? অতি প্রাচীন কাল থেকেই অধ্যাত্ম পথের সাধক, মুনিঋষি, সাধুসন্তগণ গঙ্গার তটভূমিতে আশ্রয় নিয়ে গঙ্গাতীরে যাগ-যজ্ঞ, শাস্ত্রপাঠ, দান, তপস্যা, জপ, শ্রাদ্ধকৃত্য, দেবতা পূজনে মেতে উঠে যে স্পিরিচুয়াল ভাইব্রেশন তৈরি করে দেয়, সেটাই কি মুল কারন যার জন্য গোটা বিশ্বের আধ্যাত্ম মনস্ক মানুষের এই সময়ে ভারতে এতটা জমায়েত। তবে সত্যিই জানতে ইচ্ছে করে গঙ্গাসঙ্গমের পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল রহস্য ।

Top News

চলুন একটু পুরাণে পারি দেই। সগর রাজা অশ্বমেধ যজ্ঞ করবেন বলে স্থির করেন। অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া গিয়ে বাধা পড়ে কপিল মুনির আশ্রমে। সগর তাঁর ৬০ হাজার সন্তানকে ঘোড়া খুঁজে আনতে বলে। যে কোনও মূল্যেই তাঁর ঘোড়া চাই। কিন্তু তাঁর পুত্রদের এমন মূল্য চোকাতে হবে তা তিনি হয়তো ভাবেননি। ঘোড়া খুঁজতে গিয়ে তারা কপিল মুনির আশ্রমে গিয়ে পৌঁছায়, সেখানে গিয়ে তারা খুঁজে পায় ঘোড়াকে। ঋষি তখন ধ্যানে মগ্ন। কিছু না জেনেই মুনির ধ্যান ভঙ্গ করে ছেলেরা। সাধনা ভঙ্গের রাগে তাঁর চোখ থেকে ঠিকরে বেড়িয়ে আসে আগুন। এই আগুনে পুড়ে ছাই হয় সগরের ষাট হাজার পুত্র।

এরপর কেটে যায় অনেক বছর ভানুমতীর সন্তান অসমঞ্জের ছেলে অংশুমান ওই ষাট হাজার পূর্বপুরুষকে খুঁজতে গিয়ে জানতে পারে আসল ঘটনা। কপিল মুনির থেকে তারা জানতে পারে যে তাদের পূর্ব পুরুষ এখন নরকে ছাইয়ে ঢাকা পড়েছে। এখন মুক্তির উপায় কি ? কপিল মুনি তাদের সেই উপায়ও বলে দেয়। গঙ্গার জলে ছাই ধুলে তবেই তাদের মুক্তি হবে।

এবার গঙ্গার খোঁজ করতে গিয়ে নাকানিচোপানি খেয়ে যায় অংশুমান। বহু চেষ্টাতেও গঙ্গার পথ ঘুরিয়ে কৈলাস থেকে কপিল মুনির আশ্রমে সে নিয়ে আসতে পারেনি। তাঁর আগামী প্রজন্ম এবার সেই চেষ্টা করতে শুরু করে। গঙ্গাকে আনতে গিয়ে তখন রাজবংশ সম্পত্তি উজার। তবু চেষ্টা চলতে থাকে।

এবার ডাক পড়ল ভগবান শিবের। তাকে তপস্যায় উৎসর্গ করা হল, কৈলাস থেকে নামার পথে তিনি যদি কোনওভাবে গঙ্গার গতিরোধ করতে পারেন। দেবাদিদেব কথা রেখেছিলেন। পথে কিছু বাধা আসে। জহ্নু মুনির আশ্রম ভাসিয়ে তাঁর রোষে গঙ্গা প্রায় শুকিয়ে যেতে বসেছিল। এই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে করে ভগীরথ। মুনির কাছে ক্ষমা চেয়ে গঙ্গাকে মুক্ত করেন। এরপর ভগীরথ রাস্তা দেখিয়ে গঙ্গাকে গোমুখ থেকে নবদ্বীপ হয়ে নিয়ে আসেন কপিল মুনির আশ্রম। গঙ্গার জল দিয়ে আশ্রম ধোয়া হয়। মুক্তি পায় প্রভার ছেলেরা। গঙ্গার জলে মোক্ষ লাভ করে এত দিনে তাঁরা স্বর্গের পথ ধরতে সক্ষম হয়। পুরাণ অনুসারে ঠিক এরপর থেকেই মোক্ষ লাভ করে পুণ্য লাভের চেষ্টা শুরু হয়, যা গঙ্গাসাগরের পুণ্য স্নান নামে পরিচিতি পায়।