বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর দুর্ঘটনায় কবলিত সেই গাড়ির উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের

ওয়েব ডেস্ক, ১০ মেঃ বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুরের গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। সেই গাড়ির ব্যাপারে তদন্ত শুরু করল পুলিশ। ইতিমধ্যেই গাড়িটির বিষয়ে কিছু গল্প ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। ৪ মে দুপুরে ঠাকুরনগর থেকে কল্যাণী যাওয়ার পথে গাইঘাটা থানার হাঁসপুর এলাকায় নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত একটি পুলিশের গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সঙ্ঘর্ষ হয়। আহত হন শান্তনু ঠাকুর। এই ঘটনায় পুলিশ গাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বিজেপি কর্মী, সমর্থকেরা। মারধর করা হয় গাড়ির চালককেও। এ ব্যাপারে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অভিযোগ তোলেন, শান্তনু ওই গাড়িতে করে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

Top News

প্রথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরে রেজিস্ট্রেশন করা। নম্বর–ইউপি ৫৩ সিএ ৭০০৭। গাড়ির প্রথম মালিকের নাম বিবেক শ্রীবাস্তব। কিন্তু বর্তমান মালিক বিনয়কুমার বিশ্বাস। আরও জানা গেছে, এই বিনয় বিশ্বাসের আসল বাড়ি গোপালনগর থানার আকাইপুর এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে থাকেন। সেখানে তাঁর ওষুধের ব্যবসা আছে। তিনি একজন বিজেপি সমর্থক। শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। শান্তনু ঠাকুর নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর বিনয় নিজের ওই গাড়িটি নিয়ে গোপালনগরে চলে আসেন। এরপর সেই গাড়িটি শান্তনুর প্রচারের কাজে ব্যবহার করার জন্য শান্তনুর কাছে দিয়ে যান। খাতা–কলমে গাড়িটি ‘‌প্রাইভেট’‌ অর্থাৎ নন ট্রান্সপোর্ট হিসেবে পরিবহণ দপ্তরের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আরও‌ জানা গেছে, গাড়িটির ইনসিওরেন্সের মেয়াদ এ বছরের ১২ এপ্রিল উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। গাড়ির মালিক বিনয় বিশ্বাসের দাবি, গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র সঠিক আছে। শান্তনুকে তিনি তাঁর গাড়িটি প্রচারের কাজে ব্যবহার করার জন্য দিয়েছেন।

যদিও পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, প্রাইভেট গাড়ি এইভাবে কাউকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া যায় না। গাড়ির মালিক বিনয় বিশ্বাস যেভাবে তাঁর গাড়িটি শান্তনু ঠাকুরকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলেন, তাতে তা কমার্শিয়াল হিসেবে গণ্য হবে। এভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া যায় না। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই গাড়িটির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনও গলদ ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।