গর্ভবতী মহিলাকে আনতে গিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্থ ব্যক্তিকে মাতৃযানে না তোলায় গনপিটুনির শিকার চালক

বিশ্বজিৎ সরকার, দার্জিলিং: দুর্ঘটনাগ্রস্থ ব্যক্তিকে মাতৃযানে তুলে না চাইলে চালক গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ। সরকারী নিয়মের বেড়া জালে কর্তব্য অবিচল মাতৃযান চালক শুভ্র চ্যাটার্জি গনপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বেলধরা এলাকার।

Top News

জানা গেছে,বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তরর্গত ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মনি ডিভিউশন থেকে ফোন আসে এক গর্ভবতী মহিলাকে ফাঁসিদেওয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া জন্য মাতৃযানের চালক শুভ্র চ্যাটার্জির কাছে। এরপর সেই ফোন পেয়ে গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতাল নিয়ে আসার জন্য রাওনা দেয়। ঠিক সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বেলধরা এলাকার সামনে একটি বাইক দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময় মাতৃযানটি দাড় করায়। এবং দুর্ঘটনায় আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

কিন্তু মাতৃযান চালক শুভ্র চ্যাটার্জি সাফ জানিয়ে দেন, গর্ভবতী মহিলা ছাড়া অন্যান্য রোগীকে নিয়ে যাওয়ার কোন নির্দেশিকা নেই সরকারের তরফ থেকে। তাই তিনি নিয়ে যেতে পারবেন না। এরপর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পর ক্ষনে মাতৃযানকে লক্ষ করে পাথর ও ইট বৃষ্টি শুরু হয়। এবং পিছন থেকে দুই বাইক আরোহী মাঝ রাস্তায় এম্বুলেন্স টিকে দার করিয়ে মাতৃযান চালককে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর মাতৃযান চালক সম্পূর্ণ ঘটনাটি ফাঁসি দেওয়ার বিএমওএইচকে জানায়। এবং গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর অ্যাম্বুলেন্স চালক নিজের প্রাথমিক চিকিৎসা করায়।

এই বিষয়ে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক শুভ্র চ্যাটার্জি জানায়, দিনরাত্রি অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে মানুষের সেবা করছেন কিন্তু রাতের অন্ধকারে আজ যে ঘটনাটি ঘটলো তার ফলে বোঝা যাচ্ছে যে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কোন নিরাপত্তা নেই।

অপরদিকে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিএমওএইচ অনুভব দাস বলেন, গোটা ঘটনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এবং ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশকেও জানানো হয়েছে। যদিও মাতৃযান চালক শুভ্র চক্রবর্তী দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন।