বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙায় সপ্তম দফায় বড়সড় ধাক্কার আশঙ্কা বঙ্গ বিজেপিতে

ওয়েব ডেস্ক, ১৫ মেঃ বিদ্যাসাগর কলেজে গেরুয়া গুণ্ডামিকে আড়াল করতে অবশেষে বুধবার সকালে স্বয়ং আসরে নামলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মতো ন্যক্করজনক ঘটনার দায়িত্ব গেরুয়া গুণ্ডাদের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে তৃণমূলের উপরে চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু হাস্যকর যুক্তিও তুলেছেন অমিত শাহ।

Top News

তৃণমূলের পাশাপাশি এতদিনকার পছন্দের নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করেছেন তিনি। বিজেপি সভাপতির কথায়, ‘বাংলায় নিরপেক্ষ ভোট করাতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। গত ছয় দফায় ভোট লুঠ রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। গুণ্ডারা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর পুলিশ-প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে বসে রয়েছে।’ বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় এতটাই চাপে যে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শো-কে সাত কিলোমিটারের রোড শো বলে হাস্যকর দাবিও করেছেন।

মঙ্গলবার বিজেপি সভাপতির রোড শো ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মধ্য কলকাতার একাংশ। বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে পৈশাচিক তাণ্ডব চালিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে গেরুয়া সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মতো ন্যক্করজনক ঘটনা আগামি রবিবার সপ্তম দফার ভোটে দলকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে আশঙ্কা করে ওইদিন রাত থেকেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছিলেন বিজেপি নেতারা। গেরুয়া গুণ্ডাদের আড়াল করতে তৃণমূলের উপরেই মূর্তি ভাঙার দায় চাপানোর কৌশল নিয়েছেন তাঁরা।প্রসঙ্গত, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর রোড শো ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল কলেজ স্ট্রিট চত্বর৷ সন্ধের মুখে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ওই রোড শো আটকে বিক্ষোভ দেখান টিএমসিপির সদস্যরা৷ কালো পতাকা, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে বসে অবস্থান দেখানো, যাত্রাপথ আটকে দাঁড়ানো হয় বলেও অভিযোগ৷
এরপরই সমস্যার সূত্রপাত। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে টিএমসিপি সদস্যদের হাতাহাতি বেঁধে যায়৷ রোড শো আরও খানিকটা এগোতেই বিধান সরণিতে বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে পৌছতেই ঝামেলা আরো বাড়ে। বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে শুরু হয় দু’পক্ষের সংঘর্ষ। ইট ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে৷ বিদ্যাসাগর কলেজে তখন সান্ধ্যকালীন ক্লাস চলছিল৷ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে এবিভিপি-টিএমসিপি সদস্যরা৷ দু’পক্ষের ধুন্ধুমারে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় কলেজ ক্যাম্পাস৷ এমনকী বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে ঐতিহ্যবাহী পুরোনো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গার অভিযোগ বিজেপির দিকে।

স্থানীয় মানুষের অভিযোগ বহিরাগতরা রীতিমত তান্ডব চালিয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসে, হস্টেলে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু বাইকে। আমহারস্ট স্ট্রীট, মুচিপাড়া থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শুভঙ্কর সিনহা সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কলেজের গেটে আগুন জ্বলে ওঠে৷ ধস্তাধস্তিতে আহত হন বেশ কয়েকজন৷ ইঁটবৃষ্টিতে মাথা ফেটে যায় দু, একজন পড়ুয়ার৷ আর্মহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে৷ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়৷ এলাকায় এখনও রয়েছে চাপা উত্তেজনা।