রাজ্যে সম্ভাব্য তৃতীয় ও দশম রায়গঞ্জ গার্লসের দুই ছাত্রী

তুষার কান্তি বিশ্বাস, উত্তর দিনাজপুর: ২০১৮-১৯ মাধ্যমিক শিক্ষাবর্ষে সাফল্যের অনন্য নজির গড়ল রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের দুই কৃতী ছাত্রী। এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হিয়েছিল ১২ই ফেব্রুয়ারি। তার ৮৮ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ৷ রাজ্যে মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের দুই ছাত্রী ক্যামেলিয়া রায় ও সঞ্চারী চক্রবর্তী। ক্যামেলিয়া ৬৮৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে সম্ভাব্য তৃতীয়। ৬৮১ পেয়ে সম্ভাব্য দশম এই স্কুলেরই ছাত্রী সঞ্চারী।

Top News

সকালে মেধা তালিকায় নিজের নাম দেখে চোখে জল এসে গেছিল বলে জানায় ক্যামেলিয়া। ভালো রেজাল্ট হবে সেরকম আশা ছিলই তবে প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত হতে দেখে চোখের জল আর আটকানো যায় নি। সমস্ত বিষয়ের মধ্যে অঙ্ক তার সবচেয়ে প্রিয়। ভবিষ্যতে অঙ্ক নিয়েই গবেষণা করতে চায় সে। বাঁধাধরা সময় মেপে পড়াশোনা কখনোই করেনি সে। অবসর সময়ে গল্পের বই পড়তে ও ছোট ভাইয়ের সাথে খুঁনসুটি করতে ভালোবাসে সে।প্রতিটি বিষয়ের আলাদা গৃহশিক্ষক থাকলেও জীবনবিজ্ঞানের কোনো আলাদা শিক্ষক ছিল না বলে জানায় ক্যামেলিয়া।

বাবা কাঞ্চীরাম রায় নিজে জীবনবিজ্ঞানের শিক্ষক, তাই এই বিষয়টি বাবার কাছেই পড়েছে সে। মা মাধুরী রায় গৃহবধূ। স্পষ্ট করে ক্যামেলিয়া জানিয়ে দেয় ভবিষ্যতে নিট এর মত পরীক্ষায় একেবারেই বসতে চায় না। রায়গঞ্জ গার্লস থেকেই একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর পড়াশোনা করবে সে। স্কুলের শিক্ষিকারা প্রত্যেকেই খুব ভালো,তবে ব্যক্তিগত ভাবে অঙ্কের শিক্ষিকা অঞ্জনা ম্যাডাম খুব পছন্দের তার। আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য তার বার্তা, “পড়াশোনা নিয়ে বেশি চাপ কখনই নেবে না, পড়াশোনাকে আনন্দের বিষয় করতে পারলেই সাফল্য নিশ্চিত।”

এই স্কুলেরই ছাত্রী সঞ্চারী চক্রবর্তী রাজ্যে সম্ভাব্য দশম। সঞ্চারীরও পছন্দের বিষয় অঙ্ক এবং সেও ভবিষ্যতে অঙ্ক নিয়ে গবেষণা করতে চায়।বরাবরই স্কুলের পরীক্ষায় অঙ্কে সর্বোচ্চ নম্বর পেত বলে জানিয়েছে সে। প্রত্যেক বিষয়ের একজন করে গৃহশিক্ষক ছিল সঞ্চারীর। দাদা সৌম্যদীপ চক্রবর্তী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র। পড়াশোনার ক্ষেত্রে দাদার অনেক সহযোগিতা পেয়েছে সে। অবসর সময়ে গান শুনতে, কার্টুন দেখতে ভালোবাসে মেধাবী এই ছাত্রী।নিজে গিটার বাজায়। আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য তার বার্তা,‘নোটস এর ওপর নির্ভর না করে পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়া আবশ্যক।’

ছাত্রী দের সাফল্য নিয়ে রায়গঞ্জ গার্লসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা সরকার জানান,‘বরাবরই আমাদের স্কুলের রেজাল্ট ভালোই হয়, এবার অন্যান্য বারের থেকেও অনেক বেশি ভালো হয়েছে। এই ছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। এবারের মাধ্যমিকের ব্যাচটাও খুব ভালো। এটা আমাদের ছাত্রী, শিক্ষিকা, পরিচালন সমিতি, অভিভাবক অভিভাবিকা সকলের সমবেত প্রচেষ্টার ফল।’ তিনি আরো জানান, এবছর মেধা তালিকায় জায়গা পাওয়ার পাশাপাশি ২১ জন ছাত্রী  ৯০% নম্বর পেয়েছে, ৫৯ জন স্টার মার্কস এবং ৯৭ জন প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে।