কাশ্মীর নিয়ে ভারত আর পাকিস্তানের লড়াইয়ের কারণ কি কি ? জেনে নিন……

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে দু’বার যুদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে উভয়েই পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে। যদিও ভারতের থেকে অন্যান্য অস্ত্রের দিক থেকে পাকিস্তান ধারে কাছেও নেই। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তিপুর এলাকার গোরিপুরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ভারতেরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪০ জন শহিদ হয়। পরে যদিও ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মুহম্মদ। তার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে একরকম যুদ্ধ ও অসংখ্য বিচ্ছিন্ন লড়াই হয়েই চলেছে।

  • কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান সংঘাতের কারন কি ?
Top News

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান আর ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা পাবার আগে থেকেই কাশ্মীর নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল। ‘ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্স এ্যাক্ট’ নামে ব্রিটিশ সরকার ভারত বিভক্তির যে পরিকল্পনা তৈরি করছিল তাতে বলা হয়েছিল, কাশ্মীর তার ইচ্ছে অনুযায়ী ভারত অথবা পাকিস্তানে, যে কোন রাষ্ট্রেই যোগ দিতে পারবে। সেই সময়ের কাশ্মীরের হিন্দু মহারাজা হরি সিং চাইছিলেন যে স্বাধীন থাকতে অথবা ভারতের সাথে যোগ দিতে। কারন সেই সময় কাশ্মীরে অনেক মানুষ ভারতের শাসনে থাকতে চায় না। তারা পাকিস্তানের সাথে ইউনিয়ন করে যুক্ত হতে অথবা নিজেরা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়। কারণ সেই সময় ভারত শাসিত জম্মু কাশ্মীরে ৬০ শতাংশের বেশি মুসলিম। তারপর পাকিস্তানও অনেকটা জোর করে এই কাশ্মীরে ঢুকেছে।

  • রাজা হরি সিং কাশ্মীর-ভারত ভুক্তির চুক্তিতে সই

১৯৪৭ সালের ২০ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত আদিবাসীরা কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে। কাশ্মীরের রাজা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে সহায়তা চাইলেন। কাশ্মীরের রাজা ভারত ভুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করবেন। এই শর্তে মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরকে সাহায্য করতে রাজি হন। ১৯৪৭ সালের ২৫ অক্টোবর হরি সিং কাশ্মীরের ভারত ভুক্তির চুক্তিতে সই করেন। ২৭ অক্টোবর তা ভারতের গভর্নর-জেনারেল কর্তৃক অনুমোদিত হয়।

  • প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ

১৯৪৭-৪৮ সালে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একে কাশ্মীর যুদ্ধ বলা হয়ে থাকে। কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধ মূলত কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে হয়েছিল। তখন জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। সে সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত করে। ভারত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে, পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চল দুটির ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ–যা চলেছিল প্রায় দু’বছর ধরে। ভারত বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপন করে। রাষ্ট্রসংঘ ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের অধিকৃত এলাকা খালি করে দিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের প্রস্তাব দেয়। ভারত প্রথমে এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত গণপরিষদ ভারত ভুক্তির পক্ষে ভোট দিলে ভারত গণভোটের বিপক্ষে মত দেয়। ভারত ও পাকিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধানে আসে। এই গোষ্ঠীর কাজ ছিল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা ও তদন্তের রিপোর্ট প্রত্যেক পক্ষ ও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে কাশ্মীর থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহার ও গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত গণভোটে অসম্মত হয় এবং পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহারে অসম্মত হয়। তখন থেকেই কাশ্মীর কার্যত ভারত ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত দুই অংশে ভাগ হয়ে যায়।

  • চীন-ভারত যুদ্ধ

অন্যদিকে ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে চীন কাশ্মীরের আকসাই-চীন অংশটি দখল করে নেয়। এর পরের বছর পাকিস্তান কাশ্মীরের ট্রান্স-কারাকোরাম অঞ্চলটি চীনের হাতে ছেড়ে দেয়। সেই থেকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ ভারত, পাকিস্তান ও চীন–এই তিন দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে।

  •  দ্বিতীয়বার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ

এই কাশ্মীর নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয় ১৯৬৫ সালে। ১৯৬৫ সালের ৮ এপ্রিল উভয় দেশই কচ্ছ অঞ্চলে একে অপরের সীমান্ত চৌকির ওপর আক্রমণ চালায়। প্রথমে কেবল উভয় দেশের সীমান্ত পুলিশরা এই সংঘর্ষে জড়িত হলেও শীঘ্রই উভয় দেশের সশস্ত্রবাহিনীও জড়িত হয়ে পড়ে। ১৯৬৫ সালের জুনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড উইলসন দেশ দু’টিকে সংঘর্ষ বন্ধ করতে রাজি করান এবং বিরোধটির নিষ্পত্তি করার জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। ১৯৬৮ সালে ট্রাইব্যুনালটির রায় প্রকাশিত হয় এবং পাকিস্তান কচ্ছ অঞ্চলে দাবিকৃত ৩,৫০০ বর্গ কি.মি. ভূমির মধ্যে ৩৫০ বর্গ কি.মি. ভূমি লাভ করে।

  • তৃতীয়বার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ছিল ভারতবর্ষ ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত একটি সামরিক যুদ্ধ। বাংলাদেশী ও আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ১১টি ভারতীয় এয়ারবেসে পাকিস্তান আচমকা হানা দিলে অপারেশন চেঙ্গিস খাঁ নামে এই যুদ্ধের সূচনা ঘটলে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদী মুক্তিবাহিনীর পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এই যুদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম কম সময়ের একটি যুদ্ধের মধ্যে একটি। যুদ্ধ চলাকালীন পূর্ব ও পশ্চিম ফ্রন্টে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব ও পশ্চিম রণাঙ্গনে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পূর্ব কমান্ড ঢাকায় আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। পূর্ব পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশ নামে এক নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ৭৯,৭০০ পাকিস্তান বাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ান ও ১২,০০০ অসামরিক নাগরিক সহ পূর্ব পাকিস্তানে মোট ৯৭,৩৬৮ জন পাকিস্তানিকে বাংলাদেশ যুদ্ধবন্দী করে। ১৯৭২-এর সিমলা চুক্তির মধ্যে দিয়ে বর্তমানের ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণ রেখা চূড়ান্ত রূপ পায়। ১৯৮৪ সালে ভারত সিয়াচেন হিমবাহ এলাকার নিয়ন্ত্রণ দখল করে-যা নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে চিহ্নিত নয়।

  • কার্গিল যুদ্ধ বা কার্গিল সংঘর্ষ

১৯৯৯ সালের মে-জুলাই মাসে কাশ্মীরের কার্গিল জেলায় ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত একটি সশস্ত্র সংঘর্ষ। পাকিস্তানি ফৌজ ও কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে ডি ফ্যাক্টো সীমান্তরেখা হিসেবে পরিচিত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়লে এই যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। যুদ্ধ চলাকালীন ও যুদ্ধের অব্যবহিত পরে পাকিস্তান এই যুদ্ধের দায় সম্পূর্ণত কাশ্মীরি স্বাধীনতাপন্থী জঙ্গিদের উপর চাপিয়ে দেয়। তবে যুদ্ধের পর ফেলে যাওয়া তথ্যপ্রমাণ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের পরবর্তীকালের বিবৃতি থেকে স্পষ্টতই জানা যায় যে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীও এই যুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল আশরাফ রাশিদ। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি ফৌজকে আক্রমণ করে। পরে সেনাবাহিনীকে সহায়তা দান করে ভারতীয় বিমানবাহিনীও। অবশেষে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানকে ফৌজ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। কার্গিল যুদ্ধ সুউচ্চ পার্বত্য এলাকায় যুদ্ধের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। উচ্চতার কারণে দুই দেশকেই রসদ সরবরাহ ও সেনাবাহিনীর অভিযান চালাতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও কার্গিল যুদ্ধ হল পারমাণবিক শক্তিধর দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত দ্বিতীয় তথা সাম্প্রতিকতম প্রত্যক্ষ যুদ্ধ। এই ধরনের প্রথম যুদ্ধটি ছিল ১৯৬৯ সালের সিনো-সোভিয়েত সীমান্ত সংঘর্ষ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রই পারমাণবিক অস্ত্রপরীক্ষণ চালায়। যদিও ভারতের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রপরীক্ষাটি ঘটানো হয় ১৯৭৪ সালে। পাকিস্তান প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রপরীক্ষা কার্যকর্ম চালায় ১৯৮৪ সালে। এই যুদ্ধের ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয় এবং তার ফলশ্রুতিতে ভারতে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়বরাদ্দ বাড়ানো হয়। পাকিস্তানে এই যুদ্ধের ফলে সরকার ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে অস্থিরতার সৃষ্টি হয় এবং ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাপ্রধান পারভেজ মুশাররফ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন।

  •  কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আশা তৈরি হয়েছিল

কাশ্মীর এখন বিভক্ত লাইন অব কন্ট্রোল (ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখা) বরাবর। এ ছাড়াও আকসাই-চিন এবং সিয়াচেন হিমবাহের উত্তরের আরেকটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন।বছরের পর বছর রক্তক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশই যুদ্ধ বিরতি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল ২০০৩ সালে। পাকিস্তান পরে ভারত শাসিত কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অর্থ সহায়তা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১৪ সালে ভারতে নতুন সরকার এসেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু ভারতের সেই সরকারও পাকিস্তানের সাথে শান্তি আলোচনা করার আগ্রহ দেখায়। তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দিল্লী গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এর এক বছর পরই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। দুই দেশ কি আবারও চরম শত্রুর জায়গায় ফিরে যাচ্ছে? ২০১৬ সাল থেকে ভারত শাসিত কাশ্মীরে দেশটির সামরিক ঘাঁটিত বেশ কয়েকটি আক্রমণ হয়েছে। ২০১৮ সালে ভারতশাসিত কাশ্মীর রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার যাতে বিজেপিও অংশীদার ছিল। কিন্তু জুন মাসে বিজেপি জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং তারপর থেকেই রাজ্যটি দিল্লির প্রত্যক্ষ শাসনের অধীনে। এতে সেখানে ক্ষোভ আরো বেড়েছে।

  •  পাকিস্তানি জঙ্গি হামলায় পুলওয়ামায় ৪০ জন জওয়ান শহিদ

সবশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তিপুর এলাকার গোরিপুরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪০ জওয়ান শহিদ হয়। পরে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মুহম্মদ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে আবারও তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়-তাহলে পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যে পরস্পরের হাই-কমিশনারকে তলব করেছে দুই দেশই। এমনকি দুই প্রতিবেশি দেশের হাইকমিশনারকে ‘প্রত্যাহার’-ও করেছে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ। এছাড়াও পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা যেকোনো পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত।

  • পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে ৩৫০ জঙ্গি নিধন ভারতীয় বায়ুসেনা

নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা৷ পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার ১২ দিনের মাথায় এই হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা৷ ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সচিব বিজয়কেশব গোখলে সরকারী বিবৃতি দিয়ে এই কথা জানিয়েছেন৷মঙ্গলবার ভোর সারে তিনটে নাগাদ হামলা চালায় বায়ুসেনা৷ ঘটনায় ৩৫০ জন জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ এরপরই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে জরুরী বৈঠক করে নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সীতারমন সহ উচ্চ-পদস্থ মন্ত্রীদের নিয়ে৷ প্রধানমন্ত্রীর জরুরী বৈঠকের পর বিদেশ মন্ত্রক বিজয়কেশব গোখলে এই কথা জানিয়েছেন৷

সরকারী বিবৃতিতে বিদেশ সচীব জানান, এই অভিযানে মারা গিয়েছে জইশ-মহম্মদের অনেক সিনিয়র কমাণ্ডার৷ বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদ-র জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ছিল সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে ভারত৷ বায়ুসেনার এই প্রত্যাঘাতে বহু জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে৷ এই জঙ্গি ঘাঁটিগুলো পরিচালনা করত জইশ-ই-মহম্মদের নেতা ইউসুফ আজহার৷ সে মাসুদ আজহারের শ্যালক৷ হামলায় তাঁরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর৷ বায়ু সেনার ওই হামলায় কার্যত উৎসবে মেতেছে দেশবাসী।

মঙ্গলবার জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য নয়াদিল্লির সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বুধবার সামরিক প্রত্যাঘাত করে ইসলামাবাদ। পাক বায়ুসেনাকে ব্যবহার করে তারা ভারতীয় সামরিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতীয় বায়ুসেনাও সজাগ ছিল। তাই পাকিস্তানের যাবতীয় তৎপরতাকে সাফল্যের সঙ্গেই বানচাল করে দিয়েছে ভারত। পাক বায়ুসেনার একটি যুদ্ধবিমানকে মেরে নামিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি মিগ ২১ বাইসন যুদ্ধ বিমান। সেটি পাকিস্তানের দিকেই পড়তে দেখা গিয়েছে।

তারপর পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান গুলি করে নামালো ভারত। আজ পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান আকাশ সীমা লঙ্ঘনের করে ভারতে ঢুকে পড়ে। ওই সময় ভারতীয় সেনা গুলি করে পাকিস্থানের ওই যুদ্ধ বিমান নামিয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। আমরা জানি পাকিস্তান কোনও দিন পাবে না ভারতের সাথে। তারপর সেই সাহস পাকিস্তান দেখায় কি করে।