পাঞ্জিপাড়ার সুধা নদী ভরাটের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ তৃণমূল কর্মীদের

তুষার কান্তি বিশ্বাস, উত্তর দিনাজপুর: গোয়াল পোখোর ১ নং ব্লকের পাঞ্জিপাড়া বাজারের কাছে সুধা নদী ভরাটের অভিযোগ তুলল স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। শনিবার ওই এলাকায় সুধা নদীতে চলতে থাকা মাটি ভরাটের কাজ আটকে দিয়ে সংলগ্ন ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, যেভাবে মাটি ভরাট করা হচ্ছে তাতে নদীর গতিপথে সমস্যা সৃষ্টি হবে। বর্ষার সময় পাঞ্জিপাড়া সংলগ্ন সমস্ত গ্রামীণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষ ভীষণ সমস্যায় পড়বে। তবে জমির মালিক মাস্টার সালাউদ্দিনের দাবি, পঞ্জিকৃত জমিতেই মাটি ভরাট করা হচ্ছে। তাতে নদীর কোন সমস্যা হবে না। তা স্বত্বেও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব কাজটি বন্ধ করে দিয়েছে। এদিনের বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, পাঞ্জিপাড়ার অঞ্চল কমিটির সম্পাদক ফিরোজ খান, ওয়ার্কিং কমিটির সভাপতি মাস্টার মাসুম রেজা, অন্যান্য নেতা কর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ।

Top News

মাস্টার সালাউদ্দিন বলেন, “ওই জমি আমার মার নামে ও মামার নামে আছে। সেখানে মাটি ফেলা হচ্ছে। পাশে নদী আছে। নদীর গতিপথে যাতে কোন সমস্যা না হয় তার জন্য ২২ কাঠা জমি ছেড়ে দিয়েছি। তা স্বত্বেও পাঞ্জিপাড়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও নেতারা আজকে কাজটা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি মনে করি কাজটা ঠিক হয়নি। ওরা কাজ বন্ধ করে যাওয়ার পর সংগঠনের চাপে, পার্টির চাপে আমি কাজ বন্ধ রাখছি। কিন্তু আমি এখানে থেমে থাকব না। আমি আইনের দ্বারস্থ হব। আমি ওদের কথা মত চলব না। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে আমি চাইব একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”

পাঞ্জিপাড়ার তৃণমূল অঞ্চল কমিটির সভাপতি মাস্টার মাসুম রেজা বলেন, “কিছুদিন আগে আমাদের এই পাঞ্জি পাড়া এলাকা জলে ভেসে গিয়েছিল। তা দেখার পর এখন এখানকার নদী নালা যদি কেউ ভরাট করে ফেলে তাহলে এই এলাকা আবার জলে ভেসে যাবে। কিছুদিন থেকে দেখা যাচ্ছে জাতীয় সড়কের পাশে সুধা নদীতে কিছু আসাধু পুঁজিপতি লোক ও প্রমোটার নদীতে মাটি ভরাটে কাজ করছে। সেটা দেখার পর পাঞ্জিপাড়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক ফিরোজ খানের নেতৃত্বে এলাকার সমস্ত নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষ আজকে আন্দোলনে নেমেছে। আজকে তারা সেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকার মানুষের দাবি, নদীতে মাটি ভরাট করা যাবে না। তাহলে বর্ষায় এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাবে। এখানে ইঞ্জিনিয়াররা আসবেন। তারা সমস্ত খতিয়ে দেখবেন। নদীর গতিপথের জন্য যদি জমি ফাঁকা রাখা না হয় তাহলে ওই কাজ বন্ধই রাখা হবে।”